।। মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন ।।
যেকোনো দ্বীনী গ্রন্থ পাঠ করার পূর্বে গ্রন্থটির লেখক সম্বন্ধে কিছু বিষয় জেনে নেয়া অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ঐ গ্রন্থের লেখক হবেন পাঠকারির উস্তাদ। পাঠকারী হবে তার ছাত্র। আর কোন উস্তাদ সঠিক জ্ঞানের অধিকারী না হলে তার থেকে জ্ঞান অর্জনকারী ছাত্রের জ্ঞানও সঠিক হয় না। উস্তাদ সঠিক চিন্তাধারার অধিকারী না হলে ছাত্রের মাঝে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই যেকোনো গ্রন্থ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে চাইলে তার লেখক সম্বন্ধে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই জেনে নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে দ্বীনী শিক্ষার বিষয়টি খুবই নাজুক, এ ক্ষেত্রে সাবধানী না হলে, কার থেকে দ্বীনী শিক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে তা বিবেচনায় না রাখলে দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। এজন্যই প্রসিদ্ধ তাবিয়ী হযরত ইবনে সিরীন রহ. বলেছেন, إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم. অর্থাৎ, ইলম হচ্ছে একটি দ্বীনী বিষয়। অতএব লক্ষ্য রেখো কার থেকে তোমরা তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছো। (মুকাদ্দামায়ে মুসলিম)
অতএব যার গ্রন্থ পাঠ করা হবে তার ব্যাপারে সাবধানী হতে হবে। এ পর্যায়ে যে বিষয়গুলো যাচাই করে নিতে হবে সেগুলো হচ্ছে-
১. কোন দ্বীন-ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ নির্বাচন করতে হলে সর্বাগ্রে যাচাই করে নিতে হয় গ্রন্থটির লেখক হকপন্থী লোক কি না। হকপন্থী নাহলে তার লেখা গ্রন্থ পাঠ করা যাবে না। কারণ লেখক বাতিলপন্থী হওয়ায় সে নিজে গোমরাহ, অন্যদের গোমরাহির কারণ, সে নিজে খেয়াল খুশি মত চলে, সে নিজে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত। অতএব তার কথার অনুসরণ করা যাবে না। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
ولا اتبعوا أهواء قوم قد ضلوا من قبل واضلوا كثيرا وضلوا عن سواء السبيل.
অর্থাৎ, তোমরা ঐসব লোকের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে নিজেরা গোমরাহ হয়েছে, অন্য অনেককে গোমরাহ করেছে এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। (সূরা মায়েদা: ৭৭)
অতএব সাধারণ লোক (অর্থাৎ যারা ধর্মীয় বিষয়ে বিজ্ঞ নন তারা) কোন বাতিলপন্থী লোকের বই তদ্রূপ তাওরাত, ইঞ্জীল, বেদ, উপনিষদ, পূরাণ, ত্রিপিটক প্রভৃতি বিধর্মীদের ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা থেকে বিরত থাকবেন। তাদের পক্ষে এরূপ গ্রন্থ পাঠ বিভ্রান্তির আশংকা থেকে মুক্ত নয়।
কেউ বলতে পারেন আমরা ভালটি গ্রহণ করব মন্দটা গ্রহণ করব না, তাহলে তো চলে। এ ক্ষেত্রে কথা হল আপনি যদি ভà¦