ইয়াহইয়া বিন আবু বকর: হারানোর বেদনা কত যে কঠিন! কতটা যন্ত্রণাদায়ক তা কেবলমাত্র ভুক্তভোগিরাই বুঝে৷ বেদনা অনেক আছে৷ তবে সন্তান হারানোর বেদনার চেয়ে কঠিন কোনো বেদনা হয়তো পৃথিবীতে নেই৷
এই কয়েকদিন আগে আরবী সংবাদপত্র পড়তে গিয়ে একটা শিরোনামে উপর আমার দৃষ্টি আটকে যায়৷ শিরোনামটা পড়েই চমকে উঠি৷ কষ্টে বুকটা ভারি হয়ে ওঠে৷ হৃদয়তন্ত্রীতে বেজে ওঠে বেদনার করুণ সূর!
মনের অজান্তেই চোঁখদুটো ভিজে যায়৷ ঘটনাটা পড়ে হযরত ইয়াকুব আঃ_র পুত্রশোকে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনাটা মনে পড়ে যায়৷ পবিত্র কুরআনে সূরা ইউসূফে যা বর্ণিত হয়েছে৷ কল্পনায় ঘটনাসম্বলিত সেই আয়াতগুলোর প্রতি দৃষ্টি বুলাতে থাকি৷
সিরিয়ান এই মায়ের দুটিই মাত্র ছেলে৷ এক ছেলের নাম রিয়াদ৷ কয়েকবছর হলো সে বিয়ে করেছে৷ আল্লাহ তাআলা তাকে চাঁদের মতো ফুটফুটে দুটি শিশু দান করেছেন৷ কে জানে এই নিশ্পাপ শিশু দুটি এত তাড়াতাড়ি পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হবে৷ ‘এতিম’ শব্দটা তাদের জন্য অবধারিত হয়ে যাবে! শিশুরা তো ফুলের মতো!
ফুলের মতো কচি তাদের মন৷ একটা পরিবারে ওরা ফুলের কলি হয়ে আসে৷ ধীরে ধীরে প্রস্ফুটিত হয়৷ পরিবারে সৌরব ও আনন্দের দ্যুতি ছড়িয়ে দেয়৷ ফুলের যেমন যত্নের প্রয়োজন, একটা শিশুরও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠতে, কলি থেকে প্রস্ফুটিত রঙ্গিন পুস্প হতে তেমন পরিচর্যা, যত্ন ও আদরের প্রয়োজন৷ কিন্ত কে আজ ওদের যত্ন নেবে? ওদের বায়নাগুলি শোনবে! অভিমান ভাঙ্গাবে! আহ! ভাবতেই বেদনায় কলজেটা কুঁকড়ে ওঠে!
রিয়াদরা সিরিয়ার ইদলিব পল্লিতে বাস করতো৷ ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর একসময় যুদ্ধের দাবানল প্রচণ্ড থেকে প্রচণ্ডতর হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে ওরা পরিবার সহ হিজরত করতে বাধ্য হয়৷ সহায় সম্পতি ও ঘর বাড়ি ছেড়ে এসে ওরা আরো অসহায় হয়ে পড়ে৷
অভাব অনটন অক্টোপাশের মতো ওদেরকে পেয়ে বসে৷ দেশটির স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদ বাহিনী, ইরানের মদদপুষ্ট হিজবুল্লাহ সংগঠন ও রাশিয়ান সেনাদের পৈশাচিক তাণ্ডবে সবাই ভীতসন্ত্রস্ত!
জিবীকার জন্যও কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনা৷ একান্ত পেটের দায়ে কেউ বের হলেও পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়৷ কারণ তারা অনেকটাই নিশ্চিত যে, পথে যেকোনো সময় তারা শহীদ হয়ে যেতে পারে৷ তাই প্রাণটা হাতে তারা বের হয়৷
রিয়াদ ও অভাব অন্টনে জর্জরিত ভুখা পরিবারের মুখে দু লুকমা আহার তুলে দেয়ার জন্যই ঘর থেকে বের হয়েছিলো৷ বাচ্চাদুটিকে বুকের সাথে মিশিয়ে আদর করে, চোঁখে মুখে চু