মুহাম্মাদ রাহাতুল ইসলাম
সকাল থেকেই প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে।সাথে তিব্র বেগে বাতাস। আচমকাই বৃষ্টির গতিবেগ কমে আসতে থাকে।আর একসময় সম্পূর্ণ রূপে বৃষ্টি ঝড়া খ্যান্ত হয়ে যায়।
চারিদিকের গাছপালাগুলোন যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে।হাঁস-মুরগি ও বনের পশু পাখিরা বেড়িয়ে যায় খাবারের সন্ধানে। গৃহ পালিত পশুদের কে তাদের আপন আপন মালিকগন মাঠে নিয়ে যায়।চারপাশে ছেলেপুলেদের হৈ-হুল্লোড়,পশুপাখিদের ডাক। সব মিলে ভিন্নরকম মন মতানো কলরবে পরিনত হয়।
কিন্তু তখনও মেঘের ঘোর সরেনি।সূর্যের কোনো নিশানা পর্যন্ত নেই। নাতিপুতিদের ক্ষুধার্ত রোদন বিষাদ ঠেকে তাই বাহিরে বেড়িয়ে দুই হাটু উঁচু করে উর্ধমূখী হয়ে বসে আশি বছরের বৃদ্ধ হাসমত আলী।
যেন মিনতির স্বরে প্রশ্ন করতে চায় স্রষ্টাকে। আসমান জমিনের মালিককে।তার চেহারায় স্পষ্ট ভয়ের ছাপ।এক চির চেনা আতংক ভর করেছে তার ঘাড়ে।তারা নদী মাত্রিক অঞ্চলের মানুষ।
কৃষি কাজ ও মৎস শিকার তাদের প্রদান আয়ের উৎস।জলের উচ্ছাস-বাতাসের সাথে তাল মিলিয়ে মেঘেদের ছুটাছুটি ভয়ংকর আকার ধারণ করবে বলে মনে হয়। আকাশের অবস্থা খারাপ, যে কোনো সময় যে কোনো ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।গত রাতে রেডিওর আবহাওয়ার সংবাদ থেকে সে এমনটাই শুনেছে।
নিজের অজান্তেই দু’ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে হাসমত আলীর। ভাবতে থাকে তাঁর এবং তার পরিবারের জীবন যাত্রার পট পরিবর্তন হওয়ার ইতিবৃত্ত।
সে অনেক দিন আগের কথা। যখন সে সুস্থ সবল ছিলো। দিনের পর দিন গরুর পিছে ছুটাছুটি আর হাল চাষ করে দিন পার করতো।
পৌত্রিক সুত্রে পাওয়া কিছু জমিজমা ছিল। সেখানে চাষবাস ও গরু বাছুর লালন পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতো হাসমত আলী।পরিবারের সদস্য বলতে গেলে একটি মাত্র ছেলে ও তারা স্বামী স্ত্রী দুজন। মোটামুটি সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটতো তাদের।
স্রষ্টার মর্জি। এক সময় নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অথই জলে ভেসে যায় তার সব জমিজমা। জমানো টাকা পয়সা দিয়ে একটু দূরে গিয়ে আবাসস্থল গড়ে তুলে।নদীর কোল ঘেঁষা ছাড়া উপায় নেই।কেননা নদীর মাধ্যমেই যে পেটে পরে দুমুঠো দানা পানি।জমিজিরাত তো ভেসে গেলো জলের স্রোতে।পরের জমিতে চাষ করে তেমন কিছু পাওয়া যায় না।শুধুই গাধা খাটুনি।
এরই মধ্যে কঠিন পরিশ্রম করা মানুষ হাসমত আলীর গায়ের জোর আর আগের মতে থাকে না।হয়তোবা কদিন বাদেই দাড়িয়ে যাবে বৃদ্ধের কাতারে।
এমনেই নাকের উপর নয় হাত পানি তার উপর আবার মাথ