শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেটের জামেয়া আশরাফিয়া ইসলাম নগর মাটিজুড়ার বার্ষিক মাহফিল ৮ নভেম্বর ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা মহানগরের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সম্পাদক মুফতি মঈনুল ইসলাম রাজধানীতে বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন  বৃষ্টি নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে সরকার: আমিরে মজলিস জুহাইমানের দখলে কাবা, দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল জুমার খুতবা দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন বাবুনগর মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক মজলিসের জামিয়া কাসিমুল উলূমের ৮৫তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ৭ নভেম্বর  

করোনা কিট কেনায় অনিয়ম তদন্তে আইনি নোটিশ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: করোনা ভাইরাস পরীক্ষার কিট কেনার সাজানো দরপত্র বাতিল করাসহ ক্রয় প্রক্রিয়ার অনিয়ম তদন্তে কমিটি চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৮ আগস্ট) ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং মোহাম্মদ কাওছার নোটিশ পাঠিয়েছেন।

ই-মেইলের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, আইইডিসিআর'র পরিচালক, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক, চীনের সান সিউর বায়োটেক কোম্পানির বাংলাদেশি এজেন্ট ওভারসিজ মার্কেটিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, করোনা মোকাবিলায় একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শনাক্তকরণের সঠিক-মানসম্পন্ন কিটের ব্যবহার। এসব কিট কেনার জন্য কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষ শুরু থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহার করত। কিন্তু ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পর করোনা শনাক্তকরণের আরটিপিসিআর কিট উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় কেনার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, সেখানেও একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি আমলে নিয়েছে ল অ্যান্ড লাইভ ফাউন্ডেশন। তাদের প্রাথমিক গবেষণায় মানসম্মত কিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনিয়মের চিত্রটি প্রমাণ হয়েছে।

প্রত্যেকটি কিটের বাজার মূল্য ৫০০-৬০০ টাকা হলেও শুরুতে প্রতিটি কিট কেনা হয়েছে তিন হাজার টাকার বেশি দামে। এভাবে স্বাস্থ্যখাতের একটি সিন্ডিকেট এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে লুটপাট করেছে বলে ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে চীনের সান সিউর বায়োটেক নামের একটি কোম্পানির উৎপাদিত এবং সরবরাহকৃত আরটিপিসিআর কিট কোভিড শনাক্তকরণে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওই কোম্পানির বাংলাদেশে এজেন্ট ওভারসিজ মার্কেটিং করপোরেশন।

মেডিকেল চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও ওষুধপত্রের মান নিয়ন্ত্রণ এবং সনদ প্রদানে বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং স্বনামধন্য সংস্থা হল যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ। উক্ত সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত এবং সনদপ্রাপ্ত অনেক করোনা টেস্ট কিট থাকা সত্ত্বেও আইইডিসিআর তাদেরকে অনুমোদন দেয়নি। গুটিকয়েক অখ্যাত কোম্পানির টেস্ট কিট আইইডিসিআর কর্তৃক অনুমোদিত হলেও সান সিউর বায়োটেক কোম্পানির কিট ছাড়া অন্য কোন কিট সরবরাহের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

দরপত্রের শর্তাবলীতে বিগত এক বছরে বাংলাদেশে এ ধরনের কিট সরবরাহের সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যে অভিজ্ঞতা কেবল সান সিউর কোম্পানিরই রয়েছে।

ফলে ২০ লক্ষ আরটিপিসিআর কিট ক্রয়ের দরপত্রে সান সিউর বায়োটেক ছাড়া অন্য কোন কোম্পানির কিট সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই।

একটি সিন্ডিকেটকে দরপত্র পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শর্তাবলীতে অযাচিত সংশোধনী এনে কিটের বিশুদ্ধতার সমর্থনে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র প্রদানের শর্ত বিলোপ করা হয়েছে যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এর ৪৯ বিধির চরম লঙ্ঘন।

এসব অনিয়ম তুলে ধরে জনস্বার্থে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার কর্তৃক প্রকাশিত দরপত্রটি বাতিল এবং এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ