রাশেদুল ইসলাম।।
আজো দেখা নেই রূপসী বর্ষার- ছোটবেলায় যেভাবে বর্ষাকে কাছে পেতাম, উপভোগ করতাম, বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে খাল, বিল, পুকুর বা নদীর পানিতে ঝাপাঝাপি, দাপাদাপি করতাম; এখন আর তেমনটা হয় না। বর্ষাও কেমন জানি আগের মতো নিয়ম করে আসে না! বইয়ের পাতায় পড়তাম - 'আষাঢ় শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল'। তখন এর ব্যতিক্রম খুব একটা দেখা যেত না। বৈশাখে ধান কাটার পর আবাদি জমিগুলো কিছুদিন ফসলশূন্য পতিত পড়ে থাকতো। ধানের অবশিষ্ট নাড়াতে তোড়া অঙ্কুরিত হত।
নিচে মাটিতে জন্মাতো সবুজ ঘাস। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার সবুজময় হয়ে উঠতো পুরো মাঠ। গ্রামের রাখালেরা মাঠে গরু চরাতো, ক্ষেতের আইলে বসে বাঁশি বাজাতো, নতুন নতুন গানের সুর ধরতো। বাঁশির সুরে সুরে গরু বাছুর নেচে নেচে ঘাস খেতো। কিছুদিনের মধ্যেই মাঠে প্রবেশ করতো বন্যার পানি। আকাশে অনিয়মিত দেখা যেতো মেঘের আনাগোনা, বিজলির চমক, কখনো বা মেঘের গুরুগুরু, বজ্রধ্বনি। ইচ্ছে হলেই আকাশ থেকে অবিরাম ধারায় ঝরে ঝরে পরতো বৃষ্টির ফোঁটা। কখনো রিমঝিম, কখনো মুষলধারে, কখনো বা টাপুর টুপুর আওয়াজ তোলে। নদী-নালা, মাঠ-ঘাট সব ভরে যেতো মেঘবৃষ্টি ও বন্যার পানিতে। তখন আর বুঝতে বাকি রইতোনা বর্ষা এসে গেছে। আষাঢ় শুরু হয়েছে।
তখন প্রকৃতি খুব নিয়ম করে চলতো। অথবা যেভাবে পরিচালিত হত প্রকৃতির সবকিছু ঠিক সেই নিয়মটা আমরা ধরতে পেরেছিলাম, জানতে পেরেছিলাম। যারা গ্রামের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রয়োজনে থাকতো তারাও আষাঢ়ের আগমনে বুঝতে পারতো বর্ষা শুরু হয়ছে, নদীতে নতুন পানি প্রবেশ করেছে, নদীর জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে খড়কুটো, ডোবে যাচ্ছে মাঠ ঘাট, গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠোপথ। তাইতো, অনেকেই ঘটা করে শহর থেকে ছুটে আসতো গ্রামে। নদীর পানি দেখতে। বর্ষার ঘোলাজলে নৌকা নিয়ে ভেসে চলার সাধ মেটাতে।
এখন আর প্রকৃতি আগের মত নিয়ম করে চলে না কিম্বা আমরা তার সঠিক নিয়মটা ধরতে পারি না। পুরো বৈশাখ চলে যায়; দেখা হয় না কাল বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব। জৈষ্ঠ আম কাঁঠালের মৌসুম। জৈষ্ঠ পেরিয়ে এই আষাঢ়ে দেখা দিয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল।মুখে পড়ছে পাকা পাকা আম, জাম, কাঁঠালের সুমিষ্ট রোয়া। এখন আষাঢ় চলে যাচ্ছে তবু আভাস নেই বর্ষার! আকাশে কালো মেঘের আনাগোনা, জমিনে বৃষ্টির রিমিঝিমি, টিনের চালে বৃষ্টির টাপুর টুপুর শব্দ থাকলেও সাগরের জলচ্ছাসে উছলে দিচ্ছে না তার ভিতরে লুকিয়ে রাখা পানি। ও যেন সব পানি নিজের বুকেই জমিয়ে রাখতে চাইছে। তাইতো, কেন ভাগ দিবে অন্যকে? কেন নদী বেয়ে পাà¦