মোস্তফা ওয়াদুদ: ‘স্বাস্থবিধি মেনে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে বললেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।’ গতকাল এ লাইনটি দেশের সব সংবাদ মাধ্যমে লীডে ছিলো। আর আজই তিনি সাড়া দিয়েছেন পড়পাড়ে।
বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি না হলেও সব মাদরাসা খুলে দিন। গত মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজত আমির মাদরাসার পাশাপাশি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এছাড়া ‘গণপরিবহন চালু, অফিস-আদালত, বিনোদন কেন্দ্র খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘বাস্তবসম্মত’ মন্তব্য করে আল্লামা বাবুনগরী বলেছিলেন, ‘শিক্ষার ধারাবাহিকতা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকার কারণে দেশের শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকরা আজ দিশেহারা। বই-পুস্তকের সাথে কোমলমতি ছোট শিক্ষার্থীদের যেমন ব্যাপক ফারাক তৈরি হয়েছে, তেমনি কিশোর বয়সের শিক্ষার্থীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’
তিনি বলেছিলেন, ‘যে সময়টা তারা বই-পুস্তক ও নৈতিকতার অনুশীলনে ব্যয় করত, সেটা তারা পার করছে মোবাইল-ইন্টারনেটের ক্ষতিকর ব্যবহার অথবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে অহেতুক আড্ডা দিয়ে। পাশাপাশি নানা ধরনের কিশোর অপরাধ আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে। অভিভাবকরা সন্তানদের বিপথগামিতা ও ভবিষ্যত ভেবে গভীর উৎকণ্ঠায় ভুগছেন।’
এরপর তিনি বলেছিলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে দেশের ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকদের সাথে সরকারের প্রতি আমরাও জোর আহবান জানাই ছুটি আর দীর্ঘায়িত না করে অবিলম্বে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক।’ সব কিছু খোলা রেখে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না, বলেছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।এর আগে আজ সকালে তিনি স্ট্রোক করায় ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে বলে জানিয়েছে সূত্র। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এর আগেও তিনি কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
এমডব্লিউ/