রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
তাকদির মানুষের চেষ্টার সঙ্গে কীভাবে কাজ করে? খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে: বিকেএম মহাসচিব শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিন: শায়খে চরমোনাই ‘বাংলাদেশের হজযাত্রীদের কল্যাণে সৌদি সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ সব অফিসের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশ কওমি মাদরাসার সুরক্ষায় ইসলামী আইন সংরক্ষণ পরিষদের ৬ দফা প্রস্তাব ৪ নভেম্বর থেকে কমবে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ  ফলাফল সন্তোষজনক নয় এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ  আঞ্জুমানে হেফাজতের ইজতেমা: দুটি কথা ও একটি আশা! পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাপানি অনুবাদক যিনি

জুমার দিন সম্পর্কে জেনে নিন জানা-অজানা কিছু কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সারিব সুইজা।।

শুক্রবারে কবর জিয়ারত করা: কবর জিয়ারত করা সুন্নত। রাসূল (সা.) এ ব্যাপারে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, বুরাইদা আসলামী মহানবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমাকে আমার মাতার কবর জিয়ারতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা তোমাদের মৃতদের কবর জিয়ারত কর। কেননা, তা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ১০৭)।

এছাড়া শুধু শুক্রবার কবর জিয়ারত করা সম্পর্কে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, উক্ত হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনু নু’মান নামের যে রাবী রয়েছেন, তিনি অপরিচিত এবং ইয়াহইয়া নামের রাবী মিথ্যুক (সিলসিলা যঈফাহ, হাদিস নং: ৫৬০৫, মিশকাত, হাদিস নং: ১৬৭৬)।

শুক্রবারে নফল রোজা রাখা: শুক্রবার হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১০৯৮)। নফল রোজা রাখার জন্য শুক্রবারকে নির্ধারণ বা নিদিষ্ট করে নেওয়া নিষেধ। তবে কেউ যদি বৃহস্পতি এবং শুক্রবার অথবা শুক্র ও শনিবার রোজা রাখেন অথবা আইয়ামুল বিজের অর্থাৎ প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে যদি রোজা পালন করেন, আর সেটা করতে গিয়ে যদি শুক্রবারে পড়ে যায়, তবে তা জায়েজ।

এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ জুমার আগে বা পরে একদিন মেলানো ব্যতিত শুধু জুমার দিন রোজা রেখো না (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ১৮৮৪, মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৪৫)।

শুক্রবারে মৃত্যু হলে জান্নাত: অনেকেই এ কথা বলে থাকেন যে, শুক্রবারে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় সুতরাং এ দিন কেউ মৃত্যুবরণ করলেই বিনা হিসেবে জান্নাতে চলে যাবেন। কিন্তু এ মর্মে কোনো দলিল কোরআন বা হাদিস কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যেকোনো মুসলমান জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাকে কবরের ফেতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন (তিরমিজী, হাদিস নং: ১০৯৫, মিশকাত, হাদিস নং:১৩৬৭)।

উপর্যুক্ত হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলারগণ বলে থাকেন যে, শুক্রবারে মৃত্যুবরণ করলে বিনা হিসেবে জান্নাত বা কিয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। এ সম্পর্কে মুল্লা আলী কারী (রহ.) তার ‘মিনাহুর রওদিল আযহার ফি শরহে ফিকহুল আকবার’ (পৃষ্ঠা: ২৯৫-২৯৬) এ বলেন, জুমার দিনে বা রাতে যে মারা যাবে, তার থেকে কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে এটা মোটামুটি প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব আর ফিরে আসবে না এ কথার কোনো ভিত্তি আমার জানা নেই। ’

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেকটি আমল জেনে-বুঝে করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ