আওয়ার ইসলাম: চলতি মাসে দখলকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বিক্ষোভের সময়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় ১৫ বছরের এক শিশু হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। ইসরায়েলিদের জবাবদিহিতার অভাব ওই ঘটনার জন্য দায়ী করছে বিশেষজ্ঞরা। তারা বৃহস্পতিবার ওই তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
মাইকেল লিংক ১৯৬৭ সাল থেকে চলা দখলকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ এবং বিচারবহির্ভূত মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অ্যাগনেস কলমার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, সামগ্রিক জবাদিহিতার অভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা খুবই উদ্বেগজনক।
তারা বলছে, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ কেবল তখনই ন্যায়সঙ্গত হয় যখন নিরাপত্তাকর্মী মারাত্মক বা গুরুতর কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হন। কিন্তু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে আলী আইমান আবু আলিয়া হত্যা হয়েছে এমন পরিস্থিতিতে যেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা ছিল না। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।
৪ ডিসেম্বর আল-মুঘাইয়ার গ্রামের ফিলিস্তিনি যুবকেরা কাছেই অবৈধ ইসরায়েলি ঘাটি নির্মাণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছিল।
সিভিল সোসাইটি সংস্থা ও জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার অফিসের সংগৃহীত তথ্য থেকে জানা যায়, ওই বিক্ষোভকারী যুবকেরা ইসরাইলি সেনা বাহিনীর দিকে পাথর ছুড়েছিল। যার ফলে ইসরাইলি বাহিনী তাদের দিকে রাবারে মোড়ানো ধাতব বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।
একজন ইসরায়েলি সৈন্যের আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ মিটার দূর থেকে ০.২২ রুজার প্রিসিশন রাইফেল থেকে ছোড়া একটি গুলি আবু আলিয়ার পেটে ঢুকে যায়। সে ঘটনার পর দিন হাসপাতালে মারা যায়। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলি বাহিনী কোনো ধরনের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে পড়েছিল এমন কোনো দাবি সম্পর্কে তারা অবগত নয়। তাদের তথ্য মতে, আবু আলিয়াসহ ২০২০ সালে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা বাহিনীর হাতে ৬টি শিশু নিহত হয়েছে।
লিংক ও কলমার্ড বলছেন, এটি বোঝা গেছে যে ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ও ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনা বাহিনীর গুলিতে এক হাজার ৪৮ জন ফিলিস্তিনি শিশু আহত হয়েছে। মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে ইসরাইলের দখল ক্ষমতা প্রয়োগ করে ওই প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বাড়িয়ে তুলছে।
তারা বলছে, নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো ২০১৩ সাল থেকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী অগ্নেয়াস্ত্রে ১৫৫টি ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এই হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় মাত্র তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
যার একটিতে মামলা পরে বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় মামলায়, দায়িত্বরত সৈন্য একটি আবেদন করে ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর জন্য তাকে মাত্র ৯ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তৃতীয় মামলায়, একজন সেনা আদেশ অমান্য করার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়। যার জন্য সামরিক কারাগারে তার মাত্র এক মাসের কারাদণ্ড হয়েছিল। সূত্র: ইয়েনি সাফাক
-এটি