মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
দিন শেষ হয়ে এলে  এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৫–২৯ অক্টোবর টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান

বায়তুল্লাহর পথে, জান্নাতের ছায়ায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সত্য ঘটনা অবলম্বনে- একটি হৃদয়ছোঁয়া হজ্বের গল্প!

সাখাওয়াত রাহাত।।

পবিত্র হজ্ব আদায় শেষে ফিরতি ফ্লাইটের জন্য 'সাঈদ' জেদ্দা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁর পাশের সিটেই বসেছিলেন আরেকজন হাজী সাহেব।

সালাম বিনিময়ের পর পাশের লোকটি বললেন: আমি একজন ঠিকাদার। আল্লাহ তায়ালা আমাকে দশম হজ্ব পালনের তাওফিক প্রদানের মাধ্যমে ধন্য করেছেন।

সাঈদ তাঁকে বললেন: মাশাআল্লাহ! আল্লাহ আপনার হজ্ব কবুল করুন এবং আপনার সকল অপরাধ ক্ষমা করুন।

লোকটি হেসে বললেন: আমিন। এরপর সাঈদকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি এবারের আগে আর কখনো হজ্ব করেছেন?

সাঈদ এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দ্বিধা করছিলেন। কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করার পর বললেন: আল্লাহর কসম! এটি বেশ লম্বা ঘটনা; এবং আমি চাইনা আমার কথা শুনতে শুনতে আপনি বিরক্ত হয়ে যান।

লোকটি হেসে বললেন: দয়া করে বলুন। আমি ঘটনাটা শুনতে চাই। তাছাড়া এখন তো আমাদের কোনো কাজও নেই। আমরা তো বসে বসে অপেক্ষাই করছি।

সাঈদ হাসি দিয়ে বললেন: হ্যাঁ, আমার গল্পের শুরুটা অপেক্ষা দিয়েই। আমি হজ্বের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি।

একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিরিশ বছর ফিজিওথেরাপিস্ট হিসাবে কাজ করার পর আমি হজ্বের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

একই দিন আমি আমার বেতন আনতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার পর এক মায়ের সঙ্গে আমার দেখা হয়; যার পক্ষাঘাতগ্রস্থ ছেলের চিকিৎসা আমি দীর্ঘদিন ধরে করছিলাম। আমি তাকে খুব চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন দেখতে পেলাম।

তিনি আমাকে বললেন: সাঈদ ভাই! আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। এই হাসপাতালে এটাই আমাদের শেষ দেখা।

আমি তার কথায় অবাক হলাম। ভাবলাম- তিনি হয়তো আমার চিকিৎসায় সন্তুষ্ট নন; তাই ছেলেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছেন। আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

তিনি আমাকে বললেন: না সাঈদ ভাই, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি- আপনি একজন বাবার মতোই আমার ছেলের পাশে ছিলেন। আমরা যখন আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম; তখন আপনিই তার চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে আবার আমাদের মনে আশা জাগিয়ে তুলেছিলেন।

তারপর তিনি খুব দুঃখিত ও ব্যথিত মনে আমার সামনে থেকে চলে গেলেন।

পাশের লোকটি এবার সাঈদের করার মাঝখানে বলে ওঠলেন: আশ্চর্য! তিনি যদি আপনার চিকিৎসায় সন্তুষ্ট হন এবং তার ছেলেরও উন্নতি হয় তবে তিনি কেন চলে গেলেন?

সাঈদ উত্তর দিলেন: আমিও এটাই ভেবেছিলà