মোস্তফা ওয়াদুদ: তিনি দেশের একজন বিখ্যাত আলেম। ওয়াজের মাঠে সফল বক্তা। সম্প্রতি তিনি দেশের রাজনীতিতেও সরব। তার একেকটি বক্তৃতায় দেশের মানুষ উজ্জীবিত হোন। প্রেরণা পান। সত্যের পথ খুঁজে পান। তার কথায় যেনো সোনা ফলে। সারাদেশে তার অনেক সুনাম-সুখ্যাতি।
একদিন একটি মিডিয়া হাউজ কিংবা গণ মাধ্যম থেকে তাকে ফোন করা হলো। ফোন রিসিভ করলে জানতে চাওয়া হলো, আপনি কি অমুক দলের মুহতারাম সভাপতি বলছেন? কিংবা আপনি কী দেশসেরা অমুক ব্যক্তি? ওপাশ থেকে জবাবা এলো, না ভাই! আমি তার খাদেম। সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করলেন, আচ্ছা! এ বিষয়ে আপনি কি আমাকে কিছু জানাতে পারেন? খাদেম বললেন, না ভাই!
যেভাবে শুকনো গলায় তিনি জবাব দিয়েছেন তাতে সাংবাদিক বেচারা যে আশা নিয়ে ফোন করেছিলেন সে আশায় গুড়েবালি পড়েছে। তিনি হতাশ হয়ে ফোন রেখে দেন।
এটি একটি একটি কাল্পনিক ঘটনা। কিন্তু এমনটা যে হয় না তা জোড় করে বলার মতো লোক এদেশে এখনো নেই। আমাদের আলেমগণ যারা বিশিষ্ট কিংবা দলের প্রধান কিংবা শিক্ষা সংস্কৃতি বা সমাজ সেবা নিয়ে কাজ করে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন সময়ের উঁচুতে। তাদের জন্য প্রয়োজন বিচক্ষণ ও বিশস্ত সহযোগীর। প্রয়োজন তার পাশে ছায়ার মতো লেগে থাকার একজন একান্ত সচিব। তবে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ায়েজ বা রাজনৈতিক দলের নেতারা একান্ত সচিবের সুফল ভোগ করছেন। তাদের কাজের সহযোগিতার জন্য অফিসিয়াল কিংবা নন অফিসিয়াল দায়িত্বরত একান্ত সচিব আছেন।
খাদেম নির্ভর নয় একান্ত সচিব সংস্কৃতি কোনটা প্রয়োজন? জানতে চেয়েছিলাম, দেশের খ্যাতিমান আলেম ড. আ. ফ ম খালিদ হোসেনের কাছে। তিনি বলেন, মানুষ যখন বিখ্যাত হয়ে যায়, তখন তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তাই তারা আর নিজের উপর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। তার জন্য একজন খাদেমের অবশ্যই প্রয়োজন হয়। তাই তিনি খাদেম রাখতেই পারেন। তবে এ খাদেম যিনি হবেন তাকে হতে হবে দায়িত্বশীল। আর দায়িত্বশীল খাদেম হতে হলে তাকে বেতনভূক্ত করতে হবে। না হয় গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তি ফোন দিলে তিনি ততটা সচেতনতার সাথে তার কথার জবাব দিতে পারবেন না। এটাকে আমরা ব্যক্তিগত একান্ত সচিব বলতে পারি। অথবা ইংরেজিতে যাকে বলা হয় পিএস বা প্রাইভেট এ্যাসিস্ট্যান্ট।
বর্তমানে দেশের সকল আলেমের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব না হলেও অন্তত যারা বিখ্যাত আলেম আছেন কিংবা দেশের রাজনীতির বড় কোনো দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন তাদের জন্য এই ব্যক্তিগত সহকারী