শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৮ রজব ১৪৪৭


‘আমার কর্মীর গায়ে আঁচড় দিয়ে শান্তিতে ঘুমানো যাবে না’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি আদালতে দায়েরকৃত মামলাকে ভিত্তিহীন দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

তিনি দাবি করেন, হকারদের সাথে মেয়রের লোকজনের সংঘর্ষ হলেও এর ২২ মাস ১৮ দিন পর আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পাশপাশি তাকেও ইন্ধনদাতা হিসেবে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় হকার ইস্যুতে দায়েরকৃত ওই মামলার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করতে প্রশাসনকে অনুরোধ জানান শামীম ওসমান। তিনি বলেন, তদন্তে যদি ওই ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সাথে সাথে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেবেন।

এ সময় হুঁশিয়ারি দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমার জীবন থাকতে কোনো কর্মীর গায়ে একটা আঁচড় দিয়ে নারায়ণগঞ্জে কেউ এক ঘণ্টা আরামে ঘুমাতে পারবে না।

সম্প্রতি জেলা জামায়াতের আমিরের ফাঁস হওয়া একটা অডিও রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে শামীম ওসমান দাবি করেন, জামায়াতের সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের আঁতাত রয়েছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মেয়র দেখাও করেছেন।

১৯৭৬ সালের একটি দলিল দেখিয়ে শামীম ওসমান আদমজী জুট মিলের ৩৪ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে জামায়াত নেতার কাছে বিক্রি করে দেয়ারও অভিযোগ তোলেন মেয়র আইভীর প্রয়াত বাবা তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার বিরুদ্ধে। এ দুর্নীতির ঘটনার সাথে তৎকালীন এস.ডি.ও জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন শামীম ওসমান।

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি ফুটপাতের হকারদের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৪ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের আদালতে মামলা দায়ের করেন সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত আইন বিষয়ক কর্মকর্তা জি এন এ সাত্তার। মামলায় শামীম ওসমানকে ইন্ধনদাতা হিসেবে উল্লেখ করে তার ৯ কর্মীর নামসহ এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল, সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম।

সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ও আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু প্রমুখ।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ