জিকরুল্লাহ। একটি ইবাদাত। আত্মশুদ্ধির বিশেষ মাধ্যম। আল্লাহর সাথে বান্দার সর্ম্পক তৈরির সেতুবন্ধন। মুমিনের হাতিয়ার। হ্ক্কানি পীর-মাশায়েখগণ মুরিদদের ইসলাহের জন্য বিভিন্ন আমল দিয়ে থাকেন। জিকিরও সেসব আমলের মধ্যে একটি আমল। পদ্ধতিগত কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও সকলই দাবি করেন- এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো “ইসলাহ”। তবে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে জিকিরের ধরণ নিয়ে।
সম্প্রতি উচ্চস্বরে জিকির করব নাকি আস্তে জিকির, জিকিরের শব্দ কী হবে, জিকিরের পদ্ধতি কী হবে, জিকির করার জন্য মজলিস করা যাবে কিনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে অনলাইনে-অফলাইনে বিতর্ক হতে দেখা যায়। কিন্তু ইসলামি শরিয়ত এ বিষয়ে কী? সাম্প্রতিক বিষয়টি নিয়ে দেশের শীর্ষ আলেম পীরে কামেল ও শাইখুল হাদিস আল্লামা ড. মোশতাক আহমেদ’র সঙ্গে কথা হয় আমাদের। আলাপচারিতায় ছিলেন বিশেষ প্রতিবেদক মাওলানা সুফিয়ান ফারাবী।
আওয়ার ইসলাম: আপনার কাছে প্রথমেই জানতে চাচ্ছি, আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের আত্মশুদ্ধির জন্য অনেক খানকা ও দরবার রয়েছে। আবার অনেক আলেম মাদরাসায় বসেই সাধারণ মানুষদের ইসলাহের উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরকে সাধারণত ‘পীর-মাশায়েখ’ বলা হয়ে থাকে। আমার প্রশ্ন হলো- ইসলামি শরিয়তের সঙ্গায় ‘পীর মাশায়েখ’ বলতে কী বোঝায়?
ড. মুশতাক আহমাদ: নাহমাদুহু ওয়া নুসল্লিা আলা রাসূলিহিল কারিম। প্রথমে আমি যে কথাটি আপনার সমীপে উপস্থাপন করতে চাই- প্রিয় নবী সা. পৃথীবিতে তাশরীফ এনেছেন শেষ নবী হিসেবে। আল্লাহপাক তাকে তিনটি জিম্মাদারী দিয়ে পাঠিযয়েছেন। তিলাওয়াত, তালিম ও তাজকিয়া। মৌলিকভাবে এই তিনটি দায়িত্ব দিয়ে রাসূল সা. কে দুনিয়াতে আল্লাহ পাঠিয়েছেন।
তিলাওয়াতের অর্থ হলো- আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মরজিয়াত মানুষের কাছে পৌঁছানো। এটার সাথে সম্পৃক্ত হলো ওহী। ওহী দুই প্রকার। ১-মাতলূ- কুরআন। ২-গাইরে মাতলূ- সুন্নাহ।
রাসূল বলেছেন, তোমাদের মাঝে আমি দুটি জিনিস রেখে গেলাম। যতদিন পর্যন্ত এ দুটি মজবুত করে ধরে রাখবে, ততদিন পর্যন্ত কোন গুমরাহী তোমাদের মাঝে প্রবেশ করবে না।
পয়গম্বর সা. এর দ্বিতীয় দায়িত্ব হলো- তালিম বা মানুষকে শিক্ষাদান করা। কীভাবে তারা আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির উপর চলবে, কোনটা হারাম, কোনটা হালাল. কোনটা নাজ