আলী আকবর: চিকিৎসা বিজ্ঞানে মুসলমানদের যে অবদান রয়েছে, তা আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় এক সোনালী অনুচ্ছেদ। এটাকে অবজ্ঞা করা মানেই সভ্যতার ইতিহাসকে অস্বীকার করা।
মানব সভ্যতার যে জয়যাত্রা আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি, তা রাতারাতি সম্ভব হয়নি। এর নেপথ্যে আছে হাজারো মানুষের ঘাম ও শ্রম। আর সেই মানুষগুলো ছিল ইসলামি সালতানাতের দক্ষ জনশক্তি। তাদের অধ্যবশায় আর অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে পৃথিবীর এই আধুনিকায়ন।
মুসলিমরা তাদের খিলাফাত হারানোর পর পাল্টাতে থাকে ইতিহাস। রসায়ন বিজ্ঞানী আল হাসানের নাম হয়ে যায় হ্যাজন এতে বুঝার উপায় থাকে না তিনি আরবীয় নাকি ইউরোপীয়, মুসলিম নাকি অমুসলিম? এতো গেল নাম বিকৃতির কথা।
পশ্চিমারা বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কারকে তারা নিজেদের নামে চালিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেনি। এমন শত সহস্র ইতিহাস ছিনতাইয়ের কথা আমরা সবাই জানি। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় 'আধুনিক' শব্দ যোগ করে তারা এর 'জনকের' নামটাও নিজেদের করে নিয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিকাশ
বিশেষত চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলমানেরা যখন গবেষণা শুরু করেছে তখন ইউরোপীরা গবেষণাগারের কোন ধারনাই পায়নি। ইউরোপে আজকের দিনে যে বিশ্ববিদ্যালয়, ল্যাব-রিসার্চ সেন্টার গড়ে উঠেছে তার মুলে রয়েছে মুসলিম সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন 'কর্ডোভা'। এই কর্ডোভা নগরী আজও সেই সাক্ষ্য দেয়। আর বাগদাদের মত জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ নগরী তৎকালীন ইউরোপ ও আফ্রিকায় আরেকটি খুঁজে পাওয়া যায় না।
বার শতকের মাঝামাঝি সময়ে মোঙ্গল দস্যুদের দ্বারা বাগদাদ নগরী ধ্বংশের মধ্যদিয়ে আরবে এবং ত্রয়োদশ শতকে কর্ডোভা নগরী মুসলমানদের হাত ছাড়া হলে ইউরোপে মুসলমানদের সোনালী দিনের সূর্য অস্ত যায়। বদলাতে থাকে ইতিহাস আর তাতে যোগ হয় নতুন নতুন অধ্যায়।
তাদের শত অপচেষ্টার পরেও আজো পৃথিবী মনে রেখেছে আল রাজী, ইবনে সীনা, ইবনে যহর, আল নাফিস, ইবনুল হাইসামকে। এদের মত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সেইদিনগুলোতে তৈরী করেছিলেন চোখের লেন্স, শৈল্যবিদ্যা, থার্মোমিটার, দুইশো সার্জারী যন্ত্রপাতি। তারা অপারেশনের সময় পশুর নাড়ি ব্যবহার করার মত যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আজ থেকে হাজার বছর আগে ।
প্রথম হাসপাতাল
রাসূল সাঃ তার জীবদ্দশায় বিশেষত যুদ্ধকালীন সময়ে যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন সে ধারণাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে মুসলিম শাসকগণ স্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র তথা হাসপাতাল গড়ে