মোস্তফা কামাল গাজী
আলেম, লেখক
ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দ আমাদের শেকড়। হৃদয়ের স্পন্দন, ভালোবাসার তীর্থস্থান। নবীয়ে রহমত সা. এর হাতে আঁকা রঙিন তুলির পেলব স্পর্শের অনন্য স্থাপত্য। স্বপ্নে দর্শানো তাঁর হাতের দুধের পেয়ালা থেকে পান করতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসে হাজারো শিক্ষার্থী। কিন্তু ভর্তিযুদ্ধে টিকে কেবল হাজার দেড়েক তালিবুল ইলম।
সারা বছর এ গোটাকয়েক ছাত্র জ্ঞানের মধু আহরণ করে ফিরে যায় আপন আপন নীড়ে। অন্যান্য শিক্ষাঙ্গন ও ভার্সিটির মতো দারুল উলুম দেওবন্দেও ছাত্রদের জন্য রয়েছে কিছু ডিসিপ্লিন।
আছে নিয়মতান্ত্রিকতা আর রুটিন। নিচে সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
দরস ও মোতালায়া
দাওরায়ে হাদিসের সকালের ক্লাস প্রতিদিন সাড়ে সাতটা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বিকেলের ক্লাস তিনটা থেকে আসর পর্যন্ত। মাগরিবের পর থেকে এশা আবার এশার পর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত হয় রাতের ক্লাস।
অন্যান্য জামাতের সকালের ক্লাস সকাল সাড়ে সাতটা থেকে নিয়ে দুপুর সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত হয়। বিকেলে হয় তিনটা থেকে নিয়ে আসর পর্যন্ত। মাগরিব ও এশার পর তাকরার এবং মোতালায়ার সময়।
খাবার
দারুল উলুমে এমদাদি (সম্পূর্ণ ফ্রি) ছাত্রদের দৈনিক দুবেলা খাবার দেয়া হয়। সকালের খানার সময় দুপুর সাড়ে এগারোটা থেকে একটা পর্যন্ত আর বিকেলে আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। সকালে ক্লাসে যাওয়ার আগে সবাই নিজের পয়সায় নাস্তা করে নেয়। দুপুরে দেয়া হয় গমের রুটি আর ঘন ডাল, বিকেলে রুটি আর মহিষের গোশত।
যারা ফ্রি খানা খায়, তাদের সিলভারের দুটো টিকেট দেয়া হয়। একটা সকালের জন্য, অন্যটা বিকেলের। এ টিকেট আর একটা খানা তোলার স্টিলের বাটি নিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয়।
খানা ওঠানোর লাইন থাকে পাঁচটি। লোহার বেড়ার ফাঁক দিয়ে টিকেট দিলে রুটি ও সামনের বেলার টিকেট দেয়। এরপর তরকারি উঠিয়ে যার যার রুমে নিয়ে গিয়ে খানা খায়।
আমাদের বাংলাদেশীরা 'মাছে-ভাতে' বাঙালি হওয়ায় মাদরাসা থেকে দেয়া রুটি সাধারণত খেতে পারে না। এজন্য প্রায় সব বাংলাদেশী খানা পাকানোর সরঞ্জাম কিনে নিজে ভাত রান্না করে।
আর মাদরাসার খানা বিক্রি করে দেয় স্বল্প দামে। খানা উঠানোর সময় মাদরাসার বাইরে থেকে অনেক সাধারণ মানুষ আসেন খাবার কিনতে। তাদের সঙ্গে প্রতি বেলায় জমে উঠে খাবার বেচা-কেনার হাট!
দুপুরের খাবার সাধারণত বিক্রি হয় ১৫ রুপিতে আর বিকেলেরটা ২০ রুপিতে। কোনো ক