শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ।। ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৪ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল মেক্সিকো, সুনামির সতর্কতা শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে: ভারত উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা কুরআনের পথে চললেই বদলে যাবে দেশ: আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী মসজিদের ভেতরে বিএনপি, বারান্দায় জামায়াতের জুমা আদায়! মাদক প্রতিরোধে চাহিদা ও যোগান—উভয়ই নির্মূল করতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই অপরিকল্পিত নগরায়ণ থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিন: ইসলামী আন্দোলন কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় নিরাপদ পথ নিশ্চিত করুন বিকেএমের স্থায়ী স্বেচ্ছাসেবকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত ‘দুর্দিন এলে আবারও মুসলিম লীগের মাওলানা ফজলুর রহমানের সহযোগিতা লাগবে’

সন্ত্রাসীদের আফগানিস্তানে পাঠিয়ে সামরিক উপস্থিতির ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে আমেরিকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: আমেরিকা ইরাক ও সিরিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন তারা সন্ত্রাসীদেরকে আফগানিস্তানে পাঠিয়ে সেদেশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক শাহ বাহরামির সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে বলেছেন, আফগানিস্তানে নিরাপত্তা এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই আফগানিস্তানে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।

বিদেশি জবরদখলের ফলে আফগানিস্তানে গত প্রায় ৪০ দশক ধরে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানে দায়েশ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, সেদেশে দীর্ঘ মেয়াদে সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার জন্য আমেরিকা পরিকল্পিতভাবে দায়েশকে দিয়ে নতুন করে আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ফিকাহ শাস্ত্র সংক্রান্ত উচ্চতর ক্লাসে ছাত্রদের উদ্দেশে বলেছেন, "যারা দায়েশ সৃষ্টি করে সেটাকে সিরিয়া ও ইরাকের জনগণের ওপর জুলুম ও নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করেছে তারাই আজ মধ্যপ্রাচ্যে পরাজিত হওয়ার পর দায়েশকে আফগানিস্তানে পাঠাচ্ছে।" তিনি বলেন, "মার্কিন সমর্থিত সন্ত্রাসীদের কাছে শিয়া-সুন্নির কোনো পার্থক্য নেই। শিয়া-সুন্নিসহ বেসামরিক মানুষ তাদের টার্গেট।"

ইরানের কর্মকর্তারা মনে করেন, আফগানিস্তানসহ এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার বিষয়টি অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বিদেশিদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা।

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বলেছেন, কাবুল ও তেহরানের উচিত হবে না অভিন্ন শত্রুর ব্যাপারে উদাসীন থাকা এবং অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এ দু'দেশের মধ্যে সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত।

ইরানের জাতীয় উচ্চ পরিষদের সচিব আলী শামখানি এ ব্যাপারে বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা উপস্থিতির লক্ষ্যে অজুহাত সৃষ্টির জন্য সেদেশে সন্ত্রাসী তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ইরান সব রকম উপায় উপকরণ ব্যবহার করবে।

আমেরিকা আফগানিস্তানে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। এ ব্যাপারে আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক শাহ বাহরামি বলেছেন, বর্তমানে তার দেশে ২০ হাজার সন্ত্রাসী তৎপর রয়েছে। যদি সন্ত্রাসীদেরকে তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে গোট ওই অঞ্চলই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

প্রকৃতপক্ষে, আফগানিস্তান দখল করার পর আমেরিকা সন্ত্রাসবাদ দমন করতেতো পারেনি বরং যুদ্ধ, নিরাপত্তাহীনতা ও সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় তেহরান আফগানিস্তানের নিরাপত্তাকে নিজের নিরাপত্তা বলে মনে করে এবং সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় ইরান আফগান সরকারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।#

পার্সটুডে/এইচজে


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ