সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন, চলছে ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষার নিবন্ধনে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা মুহুরী নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ  বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল পাঁচ বছরে মদিনা জিয়ারত করলেন সাড়ে ১২ কোটি ওমরাহ যাত্রী বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে গেলেন আমিরে মজলিস ইসলামাবাদে শীর্ষ আলেমদের সম্মেলনে মুসলিম ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক ২০ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ শিশুদের মতো আদর-যত্নে গাছের পরিচর্যার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 

'সামথিং ইজ বেটার দ্যান নাথিং'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইফতেখাইরুল ইসলাম

চাচা মিয়াকে নিজ নামে প্রায়ই কেউই চেনে না, সবাই তাকে সোমার বাপ বলে ডাকে! চাচা মিয়ার ভাষ্যমতে তাঁর বয়স ৭০ এর উপরে। আমার সাথে প্রতিদিন একবার দেখা হয়। আমার আর চাচার একটা কমন বিষয় আছে, আমরা দুজন দুজনকে দেখলে একটা হাসি দেই... আমার চাচা মিয়াকে দেখলে মন ভাল হয়ে যায় এবং আমি বিশ্বাস করি চাচারও একই বিষয় ঘটে।

চাচার সাথে আমার পরিচয় হয়েছে ১০ মাসেরও বেশি। একদিন চাচা আমার অফিসে আসেন, এসে বলেন স্যার 'আমারে একটা কাজ দেন'! এত বয়স্ক লোক কাজ কেন করবে বলতেই- বললেন মেয়েটা লেখাপড়া করে, খরচ আছে পরিবারের। তাঁর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি পানি দিয়ে বেড়ান! আর এখন চাচাও কাজ করতে চাচ্ছেন। বয়স্ক মানুষ হিসেবে কোনো সহানুভূতি নিতে রাজি নন তিনি। অবাক বিস্ময়ে আত্মসন্মানে বলীয়ান এক বৃদ্ধের চেহারায় আমি কী এক অহংবোধের ছায়া দেখতে পেলাম। আমি যখন বললাম- আমার অফিস তিন তলায় উঠতে গেলে আপনার অনেক কষ্ট হবে, চাচা প্রত্যুত্তরে বলেন- বসে থাকলে আমি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাবো স্যার! সেই থেকে তিনি আমাদের অফিস কক্ষের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করেন! আমার ইচ্ছে হয় তিনি আরাম করুন, কিন্তু বিধি বাম! তিনি অনুগ্রহ নেয়ার পাত্র নন।

আজ হঠাৎ মনে হলো চাচা মিয়ার সাথে একটু কথা বলি। বললাম- চাচা দাঁত তো একটিও নেই, খাবার কিভাবে খান? চাচা বললেন, মাড়ি দিয়ে খাবার চিবিয়ে খেতে খেতে মাড়ি শক্ত হয়ে গেছে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।

খারাপ লাগে না জিজ্ঞেস করতে তিনি বললেন, একটু খারাপ লাগে তাতে কি স্যার " সামথিং ইজ বেটার দ্যান নাথিং"! আমি হতভম্ব হয়ে বললাম, "ওহ মাই গুডনেস"! চাচা বলেন, স্যার ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিক পাস করেছি আমি, ব্যাংকে চাকুরি করতাম!! আমার মাথায় রীতিমত বাজ পড়লো যেন! কাজকে কখনো ছোট করে দেখিনা স্যার আর এখন বিলাসিতার সুযোগও নাই। কোথায় যে কি লুকিয়ে থাকে আমরা তার কতটাইবা জানি, মানব চরিত্র এক বিশাল বিস্ময়ের আধার!

সোমার বাবা, চাচা মিয়া দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট হয়েও নিজের ব্যক্তিত্ব বিকিয়ে দেননি! ব্যক্তিত্বের প্রকাশে তিনি "সামথিং ইজ বেটার দ্যান নাথিং" এই প্রবাদকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন।

লেখক: সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডেমরা জোন)।
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ