আওয়ার ইসলাম: সেনাবাহিনী শব্দটি পড়তে ও শুনতে এক রকম হলেও প্রত্যেক দেশের সেনাবাহিনী যে একই চরিত্রের নয়, তা ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা । বার্মার সেনাবাহিনীর অমানবিক বর্বরতা ও নৃশংসতার শিকার মানুষগুলো এখন দেখছে অন্য এক রকম সেনাবাহিনী । খাকি পোশাক, পায়ে বুট জুতা, আর কাঁধে ঝুলানো অস্ত্র থাকলেই যে নির্যাতন করবে এমন চিন্তাধারার পরিবর্তন স্বল্প সময়ে এসেছে রোহিঙ্গাদের মাঝে। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সমাদর, সহযোগিতা, ও ভালবাসা দেখেই তাদের এ ভুল ভেঙ্গেছে ।
আজ শনিবার দুপুর থেকে কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী। নিজ দেশে বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার উখিয়ায় যে ২ হাজার একর জমি নির্ধারণ করে দিয়েছে সেখানে সেনাবাহিনী ১৪ হাজার শেড তৈরি করবে। এসব শেডের প্রতিটিতে ছয়জন করে ৮৪ হাজার পরিবারকে বসবাসের সুযোগ করে দেয়া হবে। শেড নির্মাণের পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা এটি করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এসে চলমান প্রতিটি কাজ পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক ধারণা নেন। এরপর কোথায় কি করতে হবে তা নির্ধারণ করে তারা ফিরে যান। শনিবার দুপুরে ৩৬ বীর, ২৪ বেঙ্গল ও ৬৩ বেঙ্গল নামে তিনটি টিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় স্থল উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী আসে।
সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িগুলো পরিদর্শন করার সময় অনেক রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা ভয় পেয়ে যায় । বার্মার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্মমতার স্মৃতি তারা এখনো কাটিয়ে ওঠতে পারেনি বলে ভয় পায় তারা । অবশ্য বাংলাদেশ সেনা সদস্যদের ভালবাসা ও সুন্দর করে কথা বলার ধরন দেখে ভুল ভাঙ্গে রোহিঙ্গাদের ।
সেনাদের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মুহাম্মদ রাশেদ আকতার এসপি গণমাধ্যমকে জানান, পূর্ব সিদ্ধান্ত মতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এসে সেনা সদস্যরা প্রথমে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কাজ শুরু করে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন ও বিচ্ছিন্ন ত্রাণ বিতরণ এবং রাস্তায় রোহিঙ্গাদের অহেতুক জটলা সরিয়ে দিয়ে সড়ক যোগায