২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ১৩ দফা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। শুরুতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান হলেও পরে তা তাণ্ডবে রূপ নেয়। শাপলা চত্বরের জমায়েত ছড়িয়ে পড়ে পল্টন ও বায়তুল মোকাররম পর্যন্ত। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি তাদের সমর্থন জানায়। পরে রাতে অভিযানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ওই আন্দোলনের। সেদিনের পরিস্থিতি ও হেফাজত ইসলামের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কথা বলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
-শাপলা চত্বরের জমায়েতের সময় আপনি কোথায় ছিলেন?
= আমি দুপুর পর্যন্ত সেখানে ছিলাম। এর পর লালবাগ জামে মসজিদে চলে যাই। সেখানে আসর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করি। মাগরিবের নামাজের পর সেখান থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
-কতদিন পর মুক্তি পান?
= রিমান্ডে এবং জেলখানায় মোট ১৮ দিন ছিলাম। আমার আগে থেকেই ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ ছিল। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়। আমি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়েছিলাম। সরকার গত দুই বছরেও আমাকে পাসপোর্ট তৈরির অনুমতি দেয়নি। ফলে আমার আর উন্নত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
-আপনার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা এবং সেগুলোর কী অবস্থা?
= শুনেছি আমার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা আছে। তবে আমাকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই তিন মামলায় জামিন পাওয়ার পর জেল থেকে বের হই। অবশিষ্ট মামলাগুলোর কী অবস্থা জানি না। পুলিশ বলেছে, অন্য মামলাগুলো ঝুলিয়ে রেখেছে। পুলিশের সঙ্গে আলাপ করে দেখেছি, তাদের অনেকেই আমার মামলাগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দিহান। এক রাতে ৩০০ গাছ কাটার মামলাও আমার বিরুদ্ধে করা হয়। আসলে কে বা কারা গাছ কাটে আমরা জানি না। যাদের মাথায় এসব চিন্তা ছিল তারাই গাছ কেটেছে। আমরা রাসুলের (স) সম্মানার্থে শাপলা চত্বরে গিয়েছিলাম জায়নামাজ ও তসবিহ নিয়ে। আমাদের দাবি ছিল ১৩ দফা। হাঙ্গামা, দখল, সচিবালয় ঘেরাও কিংবা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করার কোনো কিছুই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।
-পরে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। আপনারা জোহরের নামাজের পর জমায়েত সমাপ্তি ঘোষণার কথা বললেও, রাতেও হেফাজতের কর্মীরা শাপলা চত্বর ও পল্টনে অবস্থান নিয়ে থাকেন।
=কথা ছিল জোহরের পর শেষ হবে। জোহরের নামাজের পর আমরা একটু দোয়া-দরু