মুস্তকীম বিল্লাহ মাসুম
কাঁদিস না সাদিকা৷আমি আছি তো! কিচ্ছু হবে না মায়ের৷
কথাগুলো যেন রাতের বুক চিরে বেরিয়ে এলো সাদিকের কণ্ঠ থেকে৷ সাদিকের বাড়ি বাঁশখালি গ্রামের উত্তর দিকে৷ ওদের গ্রামের নাম বাঁশখালি হলেও সেখানে বাঁশের কোন অভাব নেই৷ওদের নিজেদেরও একটা বাঁশঝাড আছে়৷ তবুও গ্রামের নাম বাঁশখালি হওয়ার কারণটা অন্য দশজনের মত সাদেকেরও অজানা৷
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ও৷ মা খাদিজা বেগম আর ছোট বোন সাদিকাকে নিয়েই ওর পুরো পৃথিবী৷
বাবা মারা গেছেন গত বছর আশ্বিনের শেষ দিকে৷বাবা থাকতে সাদিকরা জোসনার রাতগুলোতে উঠোনে মাদুর পেতে বসত এবং গল্প করত বাবার সাথে৷মাঝে মাঝে বাবা এমন সব মজার মজার গল্প বলতেন যে, ওরা ভাইবোন হাসতে হাসতে কুটিকুটি হত৷গভীর রাত পর্যন্ত চলত তাদের এই আড্ডা৷
সেদিনও ছিল জোসনা রাত৷উঠোন ছিল চাঁদের আলোয় ভেজা৷ বাবার গল্পটাও জমে উঠেছিল বেশ৷আড্ডাটা আরো কতক্ষণ চলত কে জানে! অবশেষে মায়ের মিষ্টি বকুনিতে বাধ্য হয়েই সেদিনের মত শেষ করতে হয়েছিল৷
কিন্তু কে জানত, শেষ হওয়া এই গল্পের আড্ডাটা আর কখনই শুরু হবে না!
রাতে কী ঘটেছিল কেউ জানে না৷কিন্তু প্রতিদিনের মত সেদিন ভোরে বাবা আর ফযরের নামায পড়তে ওঠেননি৷ঘুমের মাঝেই হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷
আগের মত জোসনা রাতগুলো এখনো ফিরে ফিরে আসে৷দূর আকাশের চাঁদটা এখনো ক্ষণেক্ষণে হাসে৷খেজুর পাতার সেই মাদুরটা ঘরের কোণে পড়ে আছে এখনো৷শুধু বাবা নেই৷ নেই সেই গল্পের আড্ডাটাও৷
বাবার শোকে শয্যাশায়ী হলেন মা৷এই শোক কাটিয়ে উঠতে প্রায় তিনমাস লেগে গেল৷
ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলেন৷ নতুন উদ্যমে ফের শুরু হল জীবনের পথচলা৷
এটাই প্রকৃতির নিয়ম৷জগত সংসার কখন কারো অপেক্ষায় থেমে থেকেছে, এমন কথা আজো শোনা যায়নি৷সম্ভবত শোনা যাবেও না কোনদিন৷ এভাবেই হয়,হয়ে আসছে৷
তবে এখনো বাবার বিরহে মায়ের চোখ মাঝে মাঝেই ভিজে ওঠে৷ নারী অস্তিত্বের কতটা জায়গা জুড়ে স্বামীর অবস্থান, সেটা শুধু একজন বিধবায় উপলব্ধি করতে পারে৷ সাদা শাড়ীর আঁচলে লুকিয়ে রাখা কষ্টগুলো কজনই বা বোঝে৷ এটাকেই বোধহয় বলে বোবা কান্না৷বোবাকান্না বোঝার মত ক্ষমতা সব মানুষের থাকে না৷যাদের আছে, তারা বহু কষ্টের ঐশ্বর্য্যের মালিক! তারা কষ্টকে ঐশ্বর্য্যের মত ভোগ করতে পারে৷
আজকাল কেন জানি খুব অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মা৷সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকেন তিনি৷ তবুও আরগ্যের দেখা মেলে না৷ সম্ভবত রোগের আলাদা কোন ধর্ম নেই৷ কর্মরত বা কর্মহীন, যে কাউকেই স্পর্শ করতে পারে৷
আজ বিকেলে হঠাৎ করে মায়ের বুকের ব্যথাটা বেড়ে গেছে৷সন্ধ্যার পর থেকে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে৷তাই মাকে হাসপালে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিল সাদিক৷
বাঁশখালি থেকে সদর হাসপালের দুরত্ব প্রায় দশ কি: মি:৷ গাড়ি ভাড়া করতে বের হল সাদিক৷বাঁশখালিতে অনেকেই সিএনজি চালায়৷ কিন্তু আজ কেউ যেতে রাজি হল না৷ কয়েকদিন ধরে বাঁশখালির বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে সাবেক চেয়ারম্যানের গোণ্ডগোল চলছে৷গতকাল রামদার কোপে খুন হয়েছে দুজন৷তাই গ