শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ।। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ৫ জিলহজ ১৪৪৭


দেখতে দেখতে হুজুরের চলে যাওয়ার ৯ বছর হয়ে গেল!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| আবদুল্লাহ আল মারুফ ||

একদিন ইশার পর ঘরোয়া বৈঠকে আল্লামা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহ. বললেন, 'দাওরার আগেই আমার মুহতারাম পিতা ইন্তেকাল করেন। ভাইবোনের মধ্যে আমিই ছিলাম সবার বড়। ইন্তেকালের আগে একদিন আব্বা আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, 'বাবা, আমার তো মনে হয় সময় শেষ হয়ে আসছে। তুমি তোমার ছোট ভাইবোনদের দেখেশুনে রাইখো। ওদেরকে পড়ালেখা করাইয়ো।'

আব্বার এই কথাটা আমি পলন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের আর্থিক অনটন ছিল। তবু ছোটভাইদের পড়ালেখার ছেঁদ পড়ে, বা ওদেরকে বাবার অনুপস্থিতি বুঝতে দিইনি। নিজে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ওদেরকে পড়ানোর চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার ভাইয়েরা সবাই মানুষ হয়েছে। হাফেজ বদরুল ইসলাম, মুফতী শামছুল ইসলাম রহ., মুফতী তৈয়্যব হুসাইন, মাওলানা তাহের, ড. তাজুল ইসলাম, মাওলানা নজরুল ইসলাম ও মাওলানা ফখরুল ইসলাম সবাই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

হুজুর আরও বলেছিলেন, 'এরপর যখন আমাদের জমিজমা বন্টন করার প্রয়োজন হলো তখন ছোট ভাইবোনদের নিয়ে  বসলাম। ওদেরকে বললাম, তোরা নিজেরা পছন্দ করে আগে নে, আমি পরে নেব।' এইটা বলে হুজুর হাসলেন। আমরা যারা উপস্থিত ছিলাম আমাদের ভেতরটা নাড়া দিয়ে ওঠলো, এমন বড় ভাই হয়! এমন বড় ভাই নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত। এবং যারাই এই নেয়ামত পেয়েছেন তারা বড় হতে পেরেছেন। একজন আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর পেছনে আছে তার বড়ভাই ড. সাইয়্যেদ আব্দুল আলী হাসানী রহ. এর স্নেহ, আদর ও তত্ত্বাবধান। একজন তাকি উসমানী সাহেবের পেছনে আছে তার বড়ভাই মুফতি রফি উসমানী সাহেবের তত্ত্বাবধান ও নেগরান। অথবা যদি বলি মুফতি আবদুল মালেক সাহেবের কথা তাহলে তার বড়ভাই মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মদ আবদুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহর কথা বলতে হবে। অনুরূপভাবে মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের পেছনেও আছে মাওলানা মাহফুজুল হক সাহেবের মতো একজন বড় ভাই।

এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে। কে জানি বলেছিলেন, বড় ভাই ভালো হলে, দায়িত্বশীল হলে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নাই। দুনিয়াটাই জান্নাত হয়ে যায়। আর যদি বড় ভাই স্বার্থপর হয়, লোভী হয়, দায়িত্বহীন হয়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু নেই।

তাই বলছিলাম, আল্লামা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহ. এর মতো 'বড় ভাই' সত্যি অনেক বড় নেয়ামত।

হুজুরের আরও একটি ঘটনা শুনেছিলাম। তিনি মালিবাগ জামিয়ার নায়েবে মুহতামিম তখন। সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। এই সময় তার মা অসুস্থ হয়ে তার বাসায়। পেটে মারাত্মক সমস্যা। জামা-কাপড়, বিছানার চাদর সব কিছুই নষ্ট করে ফেলেছেন। হুজুর বাসায় গিয়ে নিজের হাতে তা পরিষ্কার করেন। স্ত্রী বা কাজের মহিলাকে 'অর্ডার' করেননি, নিজে সাফ করেন আন্তরিকভাবে। এই দেখে তার মা খুশি হয়ে দুহাত তুলে মনভরে দোয়া করেন। আল্লাহর কাছে তার বড়ছেলের জন্য দোয়া করেন। আর সেই দোয়ার বদৌলতেই তিনি হতে পেরেছিলেন 'আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া'।

হুজুর ২০১৭ সালের মে মাসে ইন্তেকাল করেছিলেন। দেখতে দেখতে নয় বছর হয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা হুজুরকে জান্নাতুল ফেরদৌসের আলা মাকাম দান করুন। আমিন।

লেখক: তরুণ লেখক ও অনুবাদক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ