চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় ৪ বছর বয়সী শিশু ফারিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার মো. মনিরকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রায় ৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর স্বাভাবিক হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যান চলাচল।
গতকার (বৃহস্পতিবার, ২১ মে) বিকেল থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা রাত ১টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আসামিকে বিশেষ নিরাপত্তায় থানায় নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বাকলিয়া থানার চর চাত্তাই এলাকায় পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত মনিরকে গ্রেপ্তার করতে চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার আবু জাফর রোডে যায়। তাকে আটক করার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে উত্তেজিত জনতা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিযুক্তকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নিচতলার একটি কক্ষে রাখা হয়। পরে ওই মাদ্রাসা ভবন ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা ভবনের জানালার কাচ, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে দফায় দফায় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য ও দুই সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। আহত দুই সাংবাদিকের শরীরে ছররা গুলি লাগে বলে জানা গেছে।
রাত ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে র্যাব সদস্যরাও যোগ দেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত মনিরকে বাকলিয়া থানা–এ নেওয়া হয়।
এর কিছু সময় পর বাকলিয়ার তুলাতুলি এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
শেষ পর্যন্ত শতাধিক পুলিশ সদস্যের অভিযানে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আইও/