|| মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী ||
আজ সেই বেদনাবিধুর দিন—আমাদের প্রিয় রাহবার, উম্মাহর দরদী আলেম আমার চাচাজান, আল্লামা হাফেজ কারী আতাউল্লাহ হাফেজ্জী (রহ.)-কে হারানোর এক বছর পূর্ণ হলো।
তিনি ছিলেন হযরত হাফেজ্জী হুজুর (রহ.)-এর স্নেহধন্য ছোট সাহেবজাদা; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রধান আমীরে শরীয়ত, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর, বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি এবং ঢাকা কামরাঙ্গীরচরস্থ জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ার মহাপরিচালক। তাঁর জীবন ছিল দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিত, উম্মাহর কল্যাণে উৎসর্গীকৃত।
২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর প্রস্থান কেবল একটি ব্যক্তির বিদায় নয়—এ যেন একটি যুগের সমাপ্তি, একটি আলোকবর্তিকার নিভে যাওয়া। তবুও তাঁর রেখে যাওয়া শিক্ষা, আদর্শ ও দিকনির্দেশনা আজও আমাদের পথ দেখায়।
তাঁর সেই স্নিগ্ধ চেহারা, প্রশান্ত কণ্ঠস্বর, এবং হকের পথে অটল থাকার দৃঢ়তা আমাদের হৃদয়ে আজও জীবন্ত। তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি শুধু কথার মাধ্যমে নয়, বরং নিজের জীবন, আমল ও চরিত্রের মাধ্যমে আমাদের শিখিয়ে গেছেন—কীভাবে আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হয়।
তিনি ছিলেন ইলম ও আমলের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তাকওয়া ও খোদাভীতির প্রতিচ্ছবি। দ্বীনের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, উম্মাহর জন্য তাঁর দরদ, এবং সত্যের পক্ষে তাঁর নির্ভীক অবস্থান আমাদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে তাঁকে স্মরণ করছি। তাঁর শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়, তবে তাঁর রেখে যাওয়া পথ অনুসরণ করাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
হে আল্লাহ!
আপনি আপনার এই প্রিয় বান্দাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন। তাঁর সকল খেদমতকে কবুল করুন এবং আমাদেরকে তাঁর দেখানো পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
লেখক: আমির, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
আইও/