নিজস্ব প্রতিবেদক
মুসলিম বিশ্বের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক আল্লামা খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী ১১ দিনের সফরে আজ রোববার (১২ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষাবিষয়ক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
সকালে ভারতের মুম্বাই থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর তাঁকে স্বাগত জানান আয়োজক ও বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে আগামী ১৮ জুলাই রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) কনফারেন্স’-এ তিনি প্রধান অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক (কীনোট স্পিকার) হিসেবে বক্তব্য দেবেন। একই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতিতে ‘ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহ.) স্মারকগ্রন্থ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হবে।
সফরকালে আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে শিক্ষাবিষয়ক মতবিনিময় সভা, দ্বীনি সেমিনার এবং তরুণদের উদ্দেশ্যে দাওয়াহভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সফরে দেশের ঐতিহ্যবাহী দুটি কওমি মাদরাসা—আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী এবং আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
১৯৫৫ সালে ভারতের লখনৌতে জন্মগ্রহণকারী আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত আল্লামা মনযুর নোমানী (রহ.)-এর পুত্র। তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা, দারুল উলুম দেওবন্দ এবং মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। শাইখুল হাদিস আল্লামা জাকারিয়া (রহ.), সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী (রহ.) এবং হজরতজী মাওলানা এনামুল হাসান (রহ.)-এর সান্নিধ্যে তিনি ইলমি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ মুসলিম নীতিনির্ধারণী সংস্থা অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মুম্বাইয়ের ইমাম শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং জামিআ দারুল উলুম ইমামে রব্বানী-এর পরিচালক হিসেবে ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় সমান পারদর্শী এই গবেষক সমসাময়িক নানা বিষয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, তাঁর এই সফর বাংলাদেশের ইসলামি চিন্তা, শিক্ষা ও গবেষণার অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দেশীয় আলেম-উলামা ও তরুণ গবেষকদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।
আইও/