মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাবেতা আলমে ইসলামি বা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ। সংস্থাটি বিভিন্ন মাজহাব ও ইসলামি চিন্তাধারার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রায় ১৮০০ পৃষ্ঠার ‘এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামিক ইন্টেলেকচুয়াল কনসেনসাস’ প্রকাশ করেছে।
এমডব্লিউএল জানিয়েছে, মুসলিমদের অভিন্ন ইসলামি মূল্যবোধকে চিহ্নিত করা, তুলে ধরা এবং এগুলোকে আরও শক্তিশালী করার দায়িত্ব তারা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলামি ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংস্থাটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনাগুরাল কনফারেন্স ফর বিল্ডিং ব্রিজেস বিটুইন ইসলামিক স্কুলস অব থট অ্যান্ড সেক্টস’-এ অংশগ্রহণকারী আলেমরা এই বিশ্বকোষ প্রকাশের প্রস্তাব দেন। পরে বিভিন্ন ইসলামি ধারার প্রতিনিধিত্বকারী ৬০ জন আলেম, গবেষক ও চিন্তাবিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রন্থটি প্রণয়ন করা হয়।
এমডব্লিউএলের মতে, বিশ্বকোষটি ইসলামি মাজহাব ও ঐতিহ্যের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার সংস্কৃতি জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিশেষ করে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কারণে সৃষ্ট বিভেদ ও সংঘাতের ধারণার মোকাবিলায় এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রন্থটিতে ইসলামের মৌলিক অভিন্ন নীতিমালার ভিত্তিতে বিভিন্ন ইসলামি চিন্তাধারা ও মাজহাবের মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামের মহান নৈতিকতা ও প্রজ্ঞার আলোকে গঠনমূলক মতবিনিময় এবং আন্তরিক পরামর্শের সংস্কৃতি বিকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্বকোষটি প্রণয়ন করেছে Center for Safeguarding Intellect। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও আলেমরা। তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে ছিলেন Council of Senior Scholars-এর সদস্যবৃন্দ এবং International Islamic Fiqh Academy-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ফকিহ ও গবেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্য ও বিভাজনের সময়ে মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন মূল্যবোধ ও ঐক্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: রাবেতার ফেসবুক পেইজ
জেডএম/
