শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ ।। ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২০ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
রামাল্লায় ১৮ বছরের তরুণকে গুলি করে হত্যা ডেঙ্গুর লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, জরিমানা ধরা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরানের রাডার স্টেশনে মার্কিন বাহিনীর হামলা জনশুমারিতে অংশ নেওয়া জাতীয় ও ধর্মীয় দায়িত্ব: খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী খেলাফত মজলিস গাইবান্ধা জেলা শাখার তরবিয়তি মজলিস অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ক্রমেই অবরুদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে: মাওলানা ফজলুর রহমান গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে: মির্জা ফখরুল অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে ভারত দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী সংসদ ভবন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

জনশুমারিতে অংশ নেওয়া জাতীয় ও ধর্মীয় দায়িত্ব: খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

জনশুমারি (সেনসাস) কেবল একটি প্রশাসনিক বা পরিসংখ্যানগত কার্যক্রম নয়; বরং এটি একটি জাতীয় ও ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ডের সভাপতি ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মুফতি খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী।

শুক্রবার (৫ জুন) প্রকাশিত এক কলামে তিনি জনশুমারির গুরুত্ব, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক-জাতীয় জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, একটি জাতির সঠিক অবস্থা, চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণে নির্ভুল জনতাত্ত্বিক তথ্য অপরিহার্য।

মুফতি রাহমানী উল্লেখ করেন, জনশুমারির ধারণা নতুন নয়; ইসলামের প্রারম্ভিক যুগেও এর গুরুত্বের নজির পাওয়া যায়। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বিভিন্ন সময় মুসলমানদের সংখ্যা ও সক্ষমতার হিসাব সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, একটি সুশৃঙ্খল সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, জনশুমারি কোনো সম্প্রদায়ের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উপায় নয়; বরং এটি নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কোনো জনগোষ্ঠীর প্রকৃত সংখ্যা, সামাজিক অবস্থা ও প্রয়োজন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না থাকলে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

কলামে ভাষাগত পরিচয়ের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মুফতি খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী। তিনি বলেন, জনশুমারি মাতৃভাষা, আঞ্চলিক ভাষা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই ভাষা ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো জাতি বা সম্প্রদায় যদি নিজেদের প্রকৃত সংখ্যা, অবস্থা ও সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত না থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের অভাবে জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও বিভিন্ন অধিকার থেকেও বঞ্চিত হতে পারে।

এ কারণে তিনি সকল নাগরিককে জনশুমারি কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ এবং সঠিক তথ্য প্রদানের আহ্বান জানান।

কলামের উপসংহারে মুফতি রাহমানী বলেন, ইসলামি শিক্ষা ও নববী আদর্শ অনুযায়ী ব্যক্তি ও জাতির কল্যাণে সব বৈধ ও যৌক্তিক উপায় অবলম্বন করা জরুরি। জনশুমারি সেই গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলোর একটি। তিনি উদাসীনতা পরিহার করে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য মুসলিম সমাজসহ সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান।

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ