রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার বক্তব্য ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার (০১২ মে) আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে বারবার দাবি করছিল, ‘ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ডলার, আমি শুধু চেষ্টা করেছি লাশটাকে গুম করতে।
আদালত থেকে বেরিয়ে প্রিজন ভ্যানে উঠার আগেও সে সাংবাদিকদের সামনে এমন দাবি করে। ওই সময় তার কাছে ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সে জানায়, ‘ডলারের বাসা মিরপুরের ১১ নম্বরে। সে ধনী মানুষ।’
একই সময় সোহেল তার স্ত্রী স্বপ্নাকেও নির্দোষ দাবি করে।
এখন প্রশ্ন উঠে—কে এই ডলার? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ডলারের বাসা পল্লবী এলাকাতেই। সোহেলের যে ভাড়া বাসায় শিশু রামিসার ওপর পাশবিকতা চালানো হয়েছে এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই বাড়িটির তিন থেকে চারটি বাড়ির পরই ডলারের বাড়ি। এই ডলার মাদকাসক্ত এবং পেশায় অটোরিকশা চালক।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, ডলার অটোরিকশা চালক হওয়ায় রিকশার গ্যারেজ মেকানিক আসামি সোহেলের সঙ্গে তার আগেই পরিচয় ছিল।
স্থানীরা আরও জানান, ডলার বহু টাকার মালিক নয়। তবে তাদের পরিবার অবস্থাসম্পন্ন। তারা বাড়ির মালিক। ডলার নেশার টাকা জোগাতে অটোরিকশা চালায়। ডলাররা পাঁচ ভাই, দুই বোন। ভাইদের মধ্যে ডলার সবার ছোট।
ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান জানান, ভাই হিসেবে তিনি ডলারকে অস্বীকার করতে পারেন না। তবে গত ১৯ বছর ধরে পরিবারের কারও সঙ্গেই ডলারের সম্পর্ক নেই। বাড়ি ভাগাভাগির পর ভাইবোনেরা যে যার মতো বসবাস করছে। ডলার তার মতো থাকে, নেশা করে, এজন্য পরিবারের কেউ তাকে পাত্তা দেয় না।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে তিনিও দেখেছেন রামিসার খুনি সোহেল রানা ডলারের ওপর দায় চাপিয়েছে। এতবড় নৃশংসতায় ডলার ন্যূনতম সম্পৃক্ত থাকলে তারও ফাঁসি হোক, সেটা তারাও চান। কারণ এমন ঘটনায় যেই জড়িত হোক, সর্বোচ্চ বিচার হওয়া উচিত।
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘তদন্তের সময়ই একই এলাকার ডলার নামে একজনের কথা জেনেছিলেন। তবে তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণে ওই ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ডিজিটাল তদন্তেও ঘটনাস্থলে ওই ব্যক্তির উপস্থিতি মেলেনি।’
এখন কারাগারে গিয়ে হয়তো কারও শেখানো কথা বলে বিচার কার্যক্রমে ঝামেলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
কারাগারে গিয়ে হয়তো কারও শেখানো কথায় বিচার কার্যক্রমে ঝামেলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণে দেখা গেছে, ধর্ষণ ও হত্যার পর আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়েছিল। ওই জানালা দিয়ে সে একাই পালিয়েছিল। ঘটনাস্থলে ডলার নামে উপস্থিত ছিল না। সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদেও তারা এ নামে কিছু বলেনি।’
সূত্র থেকে আরও জানা যায়, এই ডলারের সাথে সোহেলের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সে শত্রুতার জের ধরেই সে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
জেডএম/
