মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান যুগকে সেরা যুগ বলা হলেও প্রকৃত অর্থে চারিত্রিক অবক্ষয়, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিদায় এবং বিজাতীয় কৃষ্টি-সভ্যতার অন্ধ অনুসরণের কারণে এই যুগ হলো সর্বনিকৃষ্ট যুগ। থার্টিফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণের নামে উন্মাদনার যে তুফান বইছে তা অপরিণামদর্শিতা ছাড়া আর কিছু নয়। এই প্রবণতা কোণ ভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। জেনে-শুনে আমরা আজ ইহুদী-নাসারার কৃষ্টি-কালচারে আবদ্ধ হচ্ছি অথচ একটি বারের জন্যও ভবছিনা যে, আমাদের ধর্মে এ সবের কোন বৈধতা আছে কি না? একবারের জন্যও আমাদের এই ভাবনা আসেনা যে, আমি একজন মুসলিম হয়ে এ সব অনাচারে লিপ্ত হতে পারি কি না?
উম্মুল মুমিনীন হযরত জয়নাব বিনতে জ্বাহশ রাজিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হজরত রাসূলুল্লাহ সা.কে প্রশ্ন করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সৎকর্মশীল ব্যক্তিবর্গ আমাদের মাঝে জীবিত থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধংস হয়ে যাবো? প্রতিত্তোরে হযরত রাসুলুল্লাহ সা. বললেন হ্যাঁ-যখন পাপাচার ও অনাচার বৃদ্ধি পাবে। (বুখারী-মুসলিম) অন্য এক হাদীসে তিনি বলেছেন "যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করবে সে তাদেরই দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে"।
মানবসৃষ্ট ফেতনা আজ যত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে পৃথিবীর চিত্রও তত দ্রুত বদলাচ্ছে। অবস্হাদৃষ্টে এই ধারণা ক্রমশই বদ্ধমূল হচ্ছে যে, সম্ভবত এই পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে আসছে। হযরত রাসূলুল্লাহ সা. এক হাদিসে ইরশাদ করেন "মানুষের সামনে এমন এক জমানা আসবে যখন ঈমানের উপর টিকে থাকা প্রজ্জলিত অঙ্গার হাতে রাখার মত কঠিন হয়ে পড়বে"।
লেখক: মহাসচিব, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
আরএইচ/