শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ।। ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১১ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
জায়নুল উলুম মাদরাসার নতুন মুহতামিম ও নির্বাহী মুহতামিম নির্বাচিত সহপাঠীর জানাজায় যেতে গিয়ে সড়কে প্রাণ গেল তরুণ আলেমের শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স ব্যবস্থাপনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইসলামী আন্দোলন নেতার মৃত্যু, জানাজায় সহকর্মীদের ঢল মাছ-মুরগি থেকে সবজি, সবখানেই চড়া দাম কওমি শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা পাবেন আধুনিক অস্ত্র: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও মুসলিম রাজনীতি মক্কা-মদিনায় জায়গা কিনতে চান? তথ্যগুলো আপনার জন্য ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে হতাহতের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

মাছ-মুরগি থেকে সবজি, সবখানেই চড়া দাম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

বাজারে মাছ-মুরগি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া মূল্যে। গত এক সপ্তাহে বাজারে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন না এলেও উচ্চমূল্যের চাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে ভাবতে হচ্ছে একাধিকবার। বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা বাজারেও স্বস্তি ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই উচ্চমূল্যের বাজারে সংসার চালানো দিন-দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) গণমাধ্যম সূত্রে বাজারের এমন চিত্র উঠে এসেছে। বাজারে মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, কয়েক মাস ধরেই বাজারে স্বস্তি নেই। আগে পরিবারের জন্য সপ্তাহে একদিন মাছ ও একদিন গরুর মাংস কিনতাম। এখন সবকিছুর দাম এত বেশি যে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে। সংসারের অন্য খরচও বেড়েছে, তাই বাজার করতে গিয়ে প্রতিটি পণ্যের হিসাব কষতে হচ্ছে।

মাংসের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই বলে মনে করেন ক্রেতারা। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল ও খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ইলিশ। আকারভেদে ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উচ্চ দামের কারণে অনেকেই ইলিশের দিকে তাকিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।

এক মাছ বিক্রেতা জানান, নদী ও সমুদ্র থেকে মাছের সরবরাহ থাকলেও পাইকারি বাজারে দাম কমেনি। তাই খুচরা বাজারেও আগের দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বেশির ভাগ ক্রেতা ছোট আকারের মাছ কিনছেন।

বাজারে পাঙ্গাস মাছ কেজিপ্রতি ২০০ টাকা, বড় রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, কাতলা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া ছোট কাঁচকি মাছ ৩০০ টাকা, মলা মাছ ২৮০ টাকা, বড় সাইজের সুরমা মাছ ৩০০ টাকা, রূপচাঁদা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, লাল কোরাল ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বাটা মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারের চিত্রও একই রকম। মৌসুমি সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম কমেনি। অধিকাংশ সবজিই ৫০ থেকে ৬০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। শাক-সব্জির দাম আগের সপ্তাহের মতোই রয়েছে।

বর্তমানে ঢেঁড়শ, পটল, ঝিঙ্গা, করলা ও চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচকলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা এবং শিম ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ তথ্যেও নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা চাল, খোলা সয়াবিন তেল, আমদানি করা রসুন, হলুদ, আদা, ব্রয়লার মুরগি, বেগুন, আলু, দেশি পেঁয়াজ, দেশি রসুন, কাঁচামরিচ ও শসার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বেশির ভাগ পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ