নিজস্ব প্রতিবেদক
নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল আজ। দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে গত ১৩ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করা হয়। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, বিভিন্ন স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং কালিমা তায়্যিবা লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে। দেশের বিভিন্ন মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে দোয়া মাহফিলের। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ এলাকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছে।
দিনটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচার করা হবে। পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশের পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করা হবে।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
এসব আয়োজনে ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদার বিষয়গুলো তুলে ধরার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিশুদের জন্যও হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।
দিনটি উপলক্ষে দেশের সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এসএইচ/