|| মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ||
মুসলিম জাতিকে সবদিক থেকে জুলুম, নির্যাতন ও কোণঠাসা করার এক চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মানুষজনকে হত্যা করছে। বুলডোজার দিয়ে মসজিদ, বাড়িঘর ভেঙে দিচ্ছে। প্রাচীন ঐতিহ্য নাম নিশানা মুছে ফেলছে। নামাজে ঈদে কোরবানিতে ইবাদাতে বাধা দিচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে শক্তিতে, সাহসে, মানচিত্রে অনেক দুর্বল অবস্থানে আমরা। কিন্তু এই উপমহাদেশে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুটি দেশ বর্তমানে অনেক শক্তিমান; প্রতিরক্ষায়, আয়তনে, হিম্মতে ও ঐতিহ্যে। অথচ তারা নিজেরা বিবাদমান অবস্থায় আছে। এর মধ্যে আবার একটি দেশ এই মুসলিম নির্যাতনের কঠিন পরিস্থিতিতেও ইন্ডিয়ার সাথে নতুন সম্পর্ক তৈরি করছে। টানাটানির চূড়ান্ত অবস্থা। অথচ দুটি দেশের শক্তি মিলিত হলে, পলিসি এক হলে ইন্ডিয়ার বারোটা বেজে যেত। সে দেশের মুসলমানদের নিরাপত্তা বিষয়ে সতর্ক থাকতে বাধ্য হতো।
ইন্ডিয়ার মুসলমানরা কি হারানো রক্তাক্ত স্পেনের ইতিহাসের দিকে যাচ্ছে? ইন্ডিয়ার পাশের মুসলিম দেশ হিসেবে আমরাও কি গভীর কোনো খাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছি? ইন্ডিয়ার প্রতি অনেক বেশি সদয় সম্পর্ক রক্ষাকারী মুসলিম দেশ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি। সেই আরব দেশগুলির নায়কেরা, ব্যবসায়ীরা, প্রতিরক্ষা শক্তির যোগানদারেরা ইন্ডিয়ায় মুসলমানদের অবস্থার কথা কি জানে না? গাজা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সময় থেকে নিয়ে দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের অসহায়ত্বের অনেক বিষয় এখন বুঝতে পারি না। বড় বড় রাষ্ট্রগুলো সামান্য পলিসির নড়াচড়া করলেও অনেক দেশের নির্যাতিত মুসলমানদের দিনকাল ভালো হতো।
কে মিত্র কে শত্রু? কোথায় কোন অঞ্চলে কাকে প্রাধান্য দিতে হবে? কোন দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে হবে? কোন দিক থেকে হাত গুটিয়ে নিতে হবে? কোন লড়াই নিজেকেই নিজে ধ্বংসের? এবং কোন পথে অগ্রসর হলে গন্তব্যের মঞ্জিল চোখে পড়বে? মাঝে মাঝে ত্যাগ ও স্বার্থপরতা, স্বচ্ছতা ও গোলকধাঁধা একরকম হয়ে সামনে এসে হাজির হয়। বড় পেরেশান লাগে তখন।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, আলোচক ও বিশ্লেষক
জেডএম/
