রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ।। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ ।। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

শিরোনাম :
ওসমান হাদির ওপর হামলাকারী দেশেই আছে : ডিএমপি নির্বাচন যথাসময়ে হবে: ইসি সানাউল্লাহ রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করবে পুলিশ : প্রেস উইং ঢাকার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করল ভারত, দিল্লির স্পষ্ট অবস্থান হাদিকে হত্যাচেষ্টা: ৩ দিনের রিমান্ডে মোটরসাইকেল মালিক হান্নান ইসলামি দলগুলো কেন প্রচার পায় না ‘প্রশিক্ষিত শুটারের মোকাবিলায় সরকার কী করছে তা জাতি জানতে চায়’ ওসমান হাদিকে গুলি করে ফয়সাল, মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আলমগীর: ডিএমপি অতীতে কোনো নেতা পাননি - তারেক রহমানকে এমন সংবর্ধনা দিতে চায় বিএনপি সংখ্যালঘুদের আতঙ্কিত করার নতুন ষড়যন্ত্রে পতিত ফ্যাসিস্টরা: হেফাজত

উমরাহ খরচ কেন বাড়ছে দিন দিন!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||মাহমুদুল হাসান||

উমরাহ নিয়ে আমার অনেক ফেসবুক স্ট্যাটাস হয়তো আপনারা দেখেছেন। আমার চেষ্টা থাকে বাস্তবতা তুলে ধরা এবং সত্যটা পরিষ্কারভাবে বলা। আজ সেই বাস্তবতারই বড় একটি দিক নিয়ে কথা বলছি:

উমরাহ খরচ কেন প্রতিনিয়ত বাড়ছে?

উমরাহ যাত্রী বেড়েছে অভূতপূর্ব হারে। অক্টোবর মাসে সারা বিশ্ব থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ মানুষ উমরাহ আদায় করেছেন, যা বিগত সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। কিন্তু বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো-

নভেম্বর মাসে আরও ২২ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখে।

এই অতিরিক্ত ২২ লাখ মানুষও তো সেই একই শহর, একই হোটেলে থাকার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু… হোটেলের সংখ্যা তো বাড়ে নাই!

নুসুক সিস্টেম আসার পর মাঝারি মানের প্রায় ৫০% হোটেল বন্ধ। নুসুক সিস্টেম চালুর পর মক্কা-মদিনার মাঝারি মানের প্রায় অর্ধেক হোটেলই বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ  একদিকে চাহিদা বাড়ছে, আরেক দিকে হোটেল কমছে। ফলে ভাড়া আকাশছোঁয়া।

আগে যে হোটেল ১৫০ রিয়ালে পাওয়া যেত, এখন সেটাই ৪০০ রিয়ালেও মিলছে না। মিললেও ভয় থাকে কখন আবার বন্ধ হয়ে যায়!

গত ১৪ দিন ধরে মদিনার মারকাজিয়ায় চাহিদামতো হোটেল মিলাতে পারছি না। অবস্থা সংকটপূর্ণ।

অনেকে বলেন ‘গত বছর বা ৫ মাস আগেই তো গিয়েছিলাম, তখন তো এমন ছিল না।’

আমি বলি- গত তিন মাসে পুরো পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে।

আমাদের মোয়াল্লিম/এজেন্সির করণীয় কী?

১. হাজীদের আগে থেকেই হোটেল দূরত্ব ও কোয়ালিটি সম্পর্কে পরিষ্কার জানানো।

নিকটবর্তী নরমাল হোটেল এখন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই পায়ে হাঁটার দূরত্বে রাখা অনেক জায়গায় সম্ভব হচ্ছে না।

২. দূরের হোটেলে ‘শাটল সার্ভিস’ নিশ্চিত করা।

নিয়মিত নামাজে নিয়ে যাওয়া-আসার জন্য

একজন দায়িত্বশীল গাইড সার্বক্ষণিক থাকা

এগুলো এখন অত্যন্ত জরুরি।

৩. বয়স্ক হাজীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা।

খুব অল্প খরচে মাহরাম ছাড়া বৃদ্ধা বা অতিরিক্ত বয়স্কদের পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ।

তারা গ্রুপের সাথে তাল মেলাতে পারেন না কষ্ট বেড়ে যায় সবারই।

কয়েকদিন আগেই এক হাজী রাস্তায় স্ট্রোক করে মারা গেলেন। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত দান করুন।

৪. বাজারে টিকে থাকতে ‘অযৌক্তিক কম দাম’ দিয়ে হাজীদের বিভ্রান্ত করবেন না।

হজ-উমরাহ মানুষের ইবাদত এখানে প্রতারণার কোনো জায়গা নেই।

৫. রমজান নিয়ে শুধু ফজিলত নয়—চাপের বাস্তবতাও বলুন।

রমজানে ভিড়, হোটেল সংকট, ট্রান্সপোর্ট সমস্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায় হাজীদের আগেই জানানো উচিত।

তাই সবাইকে অনুরোধ, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিন, এবং সঠিক তথ্য জেনে উমরাহ প্ল্যান করুন।

লেখক: সাংবাদিক ও হজ-উমরাহ সেবক

এলএইস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ