বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮


ঐক্যের সফর! এসব ছবি হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| মুফতি এনায়েতুল্লাহ ||

দুই দিন আগে শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী তার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, 'ফরেন ডেলিগেডসহ বিশেষ সফরে চট্টগ্রাম যাচ্ছি ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে। থাকবো ২ দিন, সুহৃদগণ যোগাযোগ করতে পারেন।' পোস্টের সঙ্গে একটি সেলফিও যোগ করেন।

ওই স্ট্যাটাসে অনেকে কমেন্ট করেছেন। শাঈখ উছমান গনী তাদের জবাব দিয়েছেন। সেখানে সারওয়ার হোসাইন নামের একজন 'ফি আমানিল্লাহ, মিশন এবং ভিশনটা যদি বলতেন' লিখে কমেন্ট করেন। উত্তরে শাঈখ উছমান জানান, 'ঐক্য।'
সারওয়ার হোসাইন পরে জানতে চান কিসের ঐক্য? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর শাঈখ উছমান আর দেননি।

পরবর্তীতে জানা গেছে, শাঈখ উছমানের সঙ্গে থাকা ফরেন ডেলিগেট হলেন- ড. সাইয়্যেদ আলী রেযা মাহদি মুসাভী নামের এক ইরানি নাগরিক।তিনি শাঈখ উছমানের সঙ্গে চট্টগ্রামের জিরি, হাটহাজারী, মেখল, বাবুনগর ও পটিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন। তন্মধ্যে জিরি, হাটহাজারী ও বাবুনগর মাদ্রাসার দায়িত্বশীল সঙ্গে সাক্ষাতে ছবি ফেসবুকে নানাজনের ওয়ালে দেখা যাচ্ছে।

এ সফরে আরো ছিলেন, ইরান দূতাবাসের পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদুল ইসলাম ও অন্য আরেকজন।

ইরানি এই নাগরিকের মাদরাসা পরিদর্শন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ বলছেন, যে কেউ মাদ্রাসায় যেতেই পারেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই।

আবার কেউ কেউ বলছেন, আগমনের কারণ স্পষ্ট করে, পরিচয় প্রকাশ করে শুধু শিয়া নয়, যেকোনো ধর্মের লোক যেকোনো মাদরাসা পরিদর্শন, মুহতামিমের সঙ্গে সাক্ষাত ও মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম দেখার অধিকার রাখেন। এ বিষয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই।

তাহলে ফেসবুক গরম কেন? আর শাঈখ উছমান কোন ঐক্যের কথা বললেন? এই প্রশ্নের উত্তরগুলো খুঁজে দেখা বেশি জরুরি। এই প্রশ্নটি তুলেছেনও বেশ কয়েকজন।

তন্মধ্যে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মনির আহমদ তার ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে বলেন, 'বহুল আলোচিত শিয়া আলেমকে যিনি সাথে করে চট্টগ্রাম নিয়ে এসেছেন এবং উক্ত শিয়া আলেমের নাম-পরিচয় আড়ালে রেখে ও নিজের পরিচিতিকে ব্যবহার করে কৌশলে কয়েকটি বিখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ভিজিট ও বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বদের সাথে উক্ত শিয়া আলেমের সাক্ষাত করিয়ে এক বিব্রতকর পরিস্থিতি ও অপ্রত্যাশিত বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, আমি মনে করি সেই পথপ্রদর্শক/সফরসঙ্গী তরুণ আলেমের দায় সবচেয়ে বেশি। তার কর্তব্য, এই সফর ও মিশনের উদ্দেশ্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে সবার সামনে ক্লিয়ার করা।'

মুসলিম বিশ্বের বিষফোঁড়া, শিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে অনেকেই না জেনে এটাকে মাজহাবি দ্বন্দ্ব ভাবেন। প্রসঙ্গটি সুন্দরভাবà§