বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ।। ১১ চৈত্র ১৪৩২ ।। ৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
বেফাকে সানাবিয়ার ২৭ মেধাস্থানের ২৩টিই জামিআ রাব্বানিয়ায়, সাফল্যের রহস্য কী? জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী রাহি. ঢাকায় ভর্তি ৭ ও ৮ শাওয়াল ‘নদওয়াতুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ’য় ভর্তি শুরু আগামীকাল ‘স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরী’ আল-হাইয়াতুল উলইয়া ও বেফাকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী ‘ঢালকানগর মাদরাসা’র ভর্তি আগামীকাল ঢালকানগর মাদরাসার শাখা ‘জামিয়া আশরাফুল মাদারিস কমপ্লেক্স’-এ ভর্তি আগামীকাল মাদরাসাতুল মাদীনাহ বারিধারায় ভর্তি চলছে মাইজগাঁও দারুল উলূম ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি শনিবার, বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ দৌলতদিয়ায় বাসডুবি, ৪০ জনের মতো প্রাণহানীর আশঙ্কা ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও জনগণ বঞ্চিত, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’

জিলহজ মাসে নখ-চুল ইত্যাদি না কাটার বিধান!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাফেজ মাওলানা আব্দুল মাজীদ মামুন রাহমানী

যে ব্যক্তি কুরবানী দিবে তাঁর জন্য জিলহজ্ব মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত শরীরের পশম, চুল ও নখ ইত্যাদি কাটা থেকে বিরত থাকা মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَلاَ بَشَرِهِ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏

অর্থাৎ হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ- তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, যখন (যিলহাজ্ব মাসের) প্রথম দশক শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও শরীরের কোন অংশ স্পর্শ না করে (না কাটে)।
মুসলিম শরীফ, হাদীস নং- ১৯৭৭, নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং- ৪৩৬১, ৪৩৬২, ৪৩৬৪ , মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ২৫৯৩৫,

তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ শরীফে বর্ণিত হয়েছে...
قَالَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم "‏ مَنْ رَأَى هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ ‏"‏ ‏
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেনঃ- যে ব্যক্তি যিলহাজ্বের নতুন চাঁদ দেখেছে এবং কুরবানীর নিয়ত করেছে সে যেন নিজের চুল ও নখ (কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত) না কাটে। তিরমিযি শরীফ, হাদীস নং- ১৫২৩,ইবনে মাজাহ শরীফ হাদীস নং-৩১৪৯,

তবে এই মুস্তাহাব হুকুম তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা এর উপর আমল করলে নখ কাটা ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কারের মেয়াদ ৪০ দিন অতিক্রম করবে না। কিন্তু এর উপর আমল করতে গিয়ে যদি ৪০ দিন অতিক্রম হয়ে যায় তবে সেক্ষেত্রে ৪০ দিনের ভিতরে অবশ্যই তা পরিষ্কার করে নিবে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ
وُقِّتَ لَنَا فِي قَصِّ الشَّارِبِ وَتَقْلِيمِ الأَظْفَارِ وَنَتْفِ الإِبْطِ وَحَلْقِ الْعَانَةِ أَنْ لاَ نَتْرُكَ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ‏.‏ অর্থাৎ হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন...গোঁফ ছাঁটা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা এবং নাভীর নীচের লোম ছেঁচে ফেলার জন্যে আমাদেরকে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছিল যে আমরা তা ৪০ দিনের অধিক দেরি না করি। মুসলিম শরীফ, হাদিস নং- ৪৮৭

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কুরবানীকারী তার নখ ও চুল ইত্যাদি কখন কাটবে ? এর উত্তর হচ্ছে কুরবানীকারী নিজের কুরবানী সম্পন্ন হওয়ার পর চুল-নখ ইত্যাদি কাটবে। কেননা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন
‏ مَنْ كَانَ لَهُ ذِبْحٌ يَذْبَحُهُ فَإِذَا أَهَلَّ هِلاَلُ ذِي الْحِجَّةِ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا حَتَّى يُضَحِّيَ
অর্থাৎ যার কুরবানীর পশু রয়েছে, সে যেন যিলহাজ্ব মাসের নতুন চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত তাঁর চুল ও নখ না কাটে।আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং- ২৭৯১

আর যিলহাজ্ব মাসের নতুন চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার বিধান শুধুমাত্র যারা কুরবানী করবে তাদের জন্য প্রযোজ্য অন্য কারো জন্য নয়।

মুসলিম শরীফ, হাদীস নং- ১৯৭৭, নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং- ৪৩৬১, ৪৩৬২, ৪৩৬৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ২৫৯৩৫।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ