বাংলাদেশের কওমি মাদরাসা ও এর শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপ।
বুধবার (৩ জুন) সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, কওমি মাদরাসা বাংলাদেশের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। যুগের পর যুগ ধরে এসব মাদরাসা কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, চরিত্র গঠন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের লাখো আলেম, ইমাম, খতিব, শিক্ষক ও সমাজসেবক কওমি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে গড়ে উঠেছেন এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছেন। এমন একটি বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাব্যবস্থাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা সীমাবদ্ধতার ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বা হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা অন্যায় ও অনভিপ্রেত।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপ মনে করে, গণতান্ত্রিক সমাজে গঠনমূলক সমালোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের আলোকে। কোনো মন্তব্য যদি কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, তবে তা সামাজিক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিবৃতিতে রুমিন ফারহানার প্রতি তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আলেম সমাজ এবং ধর্মপ্রাণ জনগণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিজীবী মহলকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে দায়িত্বশীল ও সংযত বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপ শিক্ষা, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আশা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা জনসমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করার কোনো অপচেষ্টা করা হবে না।
এমএম/