মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেবেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাসে ৭ মাসের ভর্তুকি একমাসে দিতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে ‎বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ‎ গওহরডাঙ্গা বেফাকের ৫০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী ২০ সেপ্টেম্বর ৫ সেপ্টেম্বর জামিআ ইকরায় ‘খুতুরাতুত তাকফির’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ক্রস বর্ডার অ্যাডুকেশনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী নাজমুল হুদা মজনুর একজোড়া কাব্য  জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প নিজের জীবনের পুরো সঞ্চয় দিয়ে মসজিদ নির্মাণ ৮৪ বছরের বৃদ্ধের

আমার ইনকামই কি পরিবারের সবাই বসে বসে খায়?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: (গল্পটি কার তা অজানা) ফুলটাইম চাকরি শুরু করি ১৯৯৯ সন থেকে। বেতন ৬ হাজার টাকা; ৬ মাস পর ৮ হাজার হয়। ১ বছরের দিকে আরেকটা চাকরি হয়। বেতন এক ধাক্কায় সোজা ২২ হাজার টাকা।

কিন্তু একটা অদ্ভুত অনুভূতি আল্লাহ্ দিলেন আমার ভেতর। তখন আমি মাত্র ১ বছরের অভিজ্ঞ, তার উপর এমন প্রোফেশনে ছিলাম যা তখন বাংলাদেশেই একদম নতুন। তাতেই ৮ হতে সোজা ২২ হাজার হবার প্রশ্নই আসে না! আমার চিন্তায় আসে যে, ঠিক যেই মাসে আমি এই চাকরি পাই, তার আগের মাসেই আব্বুর চাকরি চলে যায়।

আমার অনুভূতি হয়, নতুন একটা লাইনে মাত্র ১ বছরের অভিজ্ঞ হওয়া স্বত্বেও ৮ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকার বেতন পাবার যোগ্যতা আসলে আমার নেই। বরং পরিবারের একটা ইনকাম সোর্স আপাতত বন্ধ হয়েছে বলেই আল্লাহ্ আমার মাধ্যমে সেই কমতি কিছুটা পূরণ করাবার জন্যই হঠাৎ এমন বেতনে বৃদ্ধি করলেন। আর এই অনুভূতি আসার সাথে সাথে প্রথম মাস থেকেই সামান্য কিছু হাতখরচ রেখে বাকি টাকা আম্মিকে দিয়ে দিতাম।

এভাবে প্রায় ১৪ মাস পরে আব্বু আবার চাকরি পান। আম্মিও আমার কাছ থেকে টাকা নেয়া বন্ধ করে দিলেন। বলেছিলেন, সঞ্চয় করো।
সঞ্চয় করতে করতে বিয়ের সময় হয়ে যায়। সম্পূর্ণ নিজ খরচে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিলো। ইচ্ছেটা এতোটাই স্পষ্ট করে আল্লাহ্ পূরণ করবেন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বলতে গেলে সমস্ত সঞ্চয় শেষ হয় আমার বিয়েতে। কি অবাক! ঠিক পরের মাসেই ছিলো performance increment এর সময়। বেশ ভালো একটা রেইজ পেলাম।

আবার আল্লাহ্ অনুভূতি দিলেন যে, যেহেতু বিয়ে করেছি নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে, আমার বউয়ের রিজিকটা আমার ইনকামে যুক্ত হয়ে বেড়ে গেলো। শুধু তাই নয়, কিছু মাস পরে আবার নতুন একটা চাকরী পেলাম, মানে বেতন আরো একটু বাড়লো! আলহামদুলিল্লাহ।
নতুন এই কোম্পানিতে থাকা অবস্থায় আল্লাহ্ আমাদেরকে যমজ দুটি মেয়ে উপহার দিলেন। চারজনের সংসার শুরু হয়ে যায়। ওদের দুজনের ওজন কম ছিলো, নানা রকমের অসুস্থতা লেগেই থাকতো। ছিলো নিয়মিত খরচ। কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত ছিলাম না।

কি অদ্ভুত যে, এবার চাকরি খুঁজিনি। বরং চাকরিই খুঁজে নেয় আমাদের চারজনকে, আলহামদুলিল্লাহ । খুব মনে আছে, সকাল সকাল বাচ্চা-দুটোকে নিয়ে হাসপাতালের টিকেট কেটে অপেক্ষা করছিলাম। একজন মেয়ে আমার কোলে, আরেকজন বউয়ের কোলে। ফোন আসে, আমার এক্স-কলিগ চাকরীর খবর দেন। বেতনটাও আনুমানিক জানালেন।

কি আশ্চর্য, মেডিকেল বেনিফিটও আছে! তাও আবার শুধু আমার একার জন্য নয়, পুরো পরিবারের জন্য মেডিকেল বেনিফিট! আমিতো মহা খুশী, আলহামদুলিল্লাহ। বাচ্চা জন্মের সপ্তম মাসেই নতুন চাকরিতে জয়েন করি।

আবার অনুভূতি পাই, নতুন চাকরি, মেডিকেল বেনিফিট আমার যোগ্যতায় নয়। বরং আমার মেয়ে দুটোর রিযিক আল্লাহ্ আমার বেতনে যুক্ত করেছেন।

আমি আজও মনে করি আল্লাহ্ আমাকে যেই কর্ম দক্ষতা দিয়েছেন তার বাজার মূল্য ৬ থেকে ৮ হাজার টাকাই মাত্র। বাকি একটি অংশ আমার মা-বাবার জন্য বরাদ্ধ, আরেকটা অংশ আমার স্ত্রীর জন্য বরাদ্ধ, আরেকটা বড় অংশ আমার মেয়ে-দুটোর জন্য। হিসাব করে দেখলাম, আমার ইনকামের বড় একটা অংশ আসে আমার মেয়ে-দুটোর রিজিক হতে।

ওদিকে আল্লাহ্ ওয়াদা করে রেখেছেন:
“তোমাদের সন্তানদের দারিদ্র্যের আশংকায় হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিযিক দেই এবং তোমাদেরকেও। (১৭:৩১)”
আমার এই লেখাটা সেই সকল বাবাদের অন্তরে ও চিন্তায় আঘাত করার জন্য:

যারা মনে করছেন তার বৃদ্ধা মা, অবসর নেয়া বাবা আর স্ত্রী-সন্তানরা শুধু বসে বসে তার কামাই খায় আর তিনি একাই সম্পূর্ন নিজ যোগ্যতায় সকলের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করে উপার্জন করছেন।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ