শিরোনাম :
সারাবিশ্বে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাতিহা আয়াত!
নভেম্বর ১৩, ২০২১ ৩:৫৩ অপরাহ্ণ

রফিকুল ইসলাম জসিম ।। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ায় একটা শিশুর ভিডিও। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াত আবার
কখনোবা কোরআনের অর্থসহ টিউটোরিয়ালে ইসলামের আলো ছড়াচ্ছে মাত্র ১০ বছরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিশু ফাতিহা আয়াত৷ বাবা ব্যারিস্টার আফতাব আহমেদ। মা সালমা আকতার একজন স্কুল শিক্ষিকা। ফাতিহা বাবা-মা’র সাথে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে বসবাস করেন।

ইসলামের আলো ছড়ানোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দিয়েছেন অসংখ্য বক্তব্য। ১৬তম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন ২০১৯, ইউএন ডে এবং উইমেন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাজেন্ডাতে অংশ নিয়ে শিশু নির্যাতন, লিঙ্গ বৈষম্য, পারিবারিক সহিংসতায় শিশুদের সমস্যা, শরণার্থী শিশুদের অমানবিক জীবন নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেছে।

ফাতিহার করা কিছু ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে তার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল। তাদের বাসায় লিভিং রুমের এক কোনায় তার স্টুডিও আছে। আগে বাবা-মা সাহায্য করত, এখন সে নিজেই সাজগোজ করে লাইট-ক্যামেরা রেডি করে ভিডিও রেকর্ড করে, নিজেই প্রিমিয়ার প্রো অথবা ফাইনাল কাট প্রো’–তে এডিট করে নিজেই ভিডিও আপলোড করে। গণিত ছাড়াও ফাতিহা বিজ্ঞান, ভূগোল, কোডিং, কোরআনের তাফসির, সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়েও বিভিন্ন কনটেন্ট আপলোড করে।

আমেরিকার একটি টিভি চ্যানেল ২০১৯ সনে রমজান মাসব্যাপী একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেই অনুষ্ঠানের নাম ছিল রামাদান উইথ ফাতিহা। সেই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিল ফাতিহা।

সে যেদিন প্রথম রোজা রাখে, সে দিন খুব খেতে চেয়েছিল। ইফতারের আগে ফাতিহার মনে হচ্ছিল, বুঝি পৃথিবীর সব খাবার আর পানি সে খেয়ে ফেলবে। তার বাবা তখন তাকে বলেছেন, তার সেদিন যেমন ক্ষুধা লেগেছে, তেমনই ক্ষুধা–তৃষ্ণায় প্রতিদিন কাতর থাকে ইয়েমেন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন, সোমালিয়া, ইথিওপিয়ার তার বয়সী হাজারো শিশু। সেদিন থেকেই ফাতিহা তার স্বপ্ন বদলে ফেলেছে।

ফাতিহার কথার যাদুতে মুগ্ধ মানুষ। আমেরিকার বুকে নিজেকে মেলে ধরেছেন যেন আমেরিকার বুকে বাংলার এক টুকরো নক্ষত্র। আমেরিকার ন্যাশনাল ম্যাথ অলিম্পিয়াড অনারেবল মেনশন হয়েছেন। আমেরিকার জ্যাকসন হাইটসে এই জাতীয় গণিত প্রতিযোগিতায় ফাতিহার হাতে বাংলাদেশি পতাকা দেখে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- এটা তো আন্তর্জাতিক কোনো ইভেন্ট নয়, তা সত্ত্বেও তুমি তোমার নিজের দেশের পতাকা বহন করছ কেন? তার উত্তরে ফাতিহা বলেন- আমার দেশের কেউ যেহেতু আগে কখনও এই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করেনি, তাই আমি নিজের এই অর্জনকে দেশের সবার অর্জন বলে মনে করছি। এই পুরস্কার আমি বাংলাদেশের সব গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীকে উৎসর্গ করেছি।

ফাতিহা জানায়, ‘চার বছর বয়সে আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে আসি, তখন থেকেই আমার ফার্স্ট ল্যাঙ্গুয়েজ যেন ইংরেজি হয়ে না যায়, সে বিষয়ে বাবা-মা ভীষণ নজর দিতেন। বাবা প্রতিদিন আমাকে সঙ্গে নিয়ে বিবিসি বাংলার খবর শোনেন, সেখানে কিছু না বুঝলে আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করি। মায়ের সঙ্গে আমি প্রতি উইকেন্ডে বাংলা সিনেমা দেখি। আমি বাংলা পড়তে ও লিখতে পারি। নিউইয়র্কে থাকলেও আমি বাংলাদেশের বোর্ডের পাঠ্যপুস্তক নিয়মিত পড়ি।’

ফাতিহা মনের ভেতর স্বপ্ন বুনেন একদিন মহাকাশচারী হবেন। মহাকাশে গিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়াবে।তাইতো ফাতিহা বাবার সাথে কেনেডি স্পেস সেন্টারে ২৭ বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী বিখ্যাত নভোচারী ‘ডন থমাস’ এর সাথে সাক্ষাৎ করে নভোচারী হওয়ার জন্য মূল্যবান দিক নির্দেশনা গ্রহণ করে। অ্যাস্ট্রনট ডন থমাস এর সাথে মিশন কন্ট্রোল রুম ঘুরে এসে ফাতিহা ঘরের এক কোণে বানিয়েছে নিজের ব্যক্তিগত স্পেস রিচার্জ কর্নার নাম দিয়েছে বায়তুল আয়াত বা ‘আয়াতের ঘর’। ফাতিহা নিজের ঘরকেই একটা গবেষণাগার বানিয়ে নিয়েছে।

ফাতিহা চায় বড় হয়ে এমন কিছু করে বিশ্বসভ্যতায় অবদান রাখতে, যেন আর একটি শিশুও ক্ষুধাকাতর দিন না কাটায়। তাই ফাতিহা গড়ে তোলেছে ‘চিল এন্ড ডি’ নামে সহযোগী সংগঠন। যেখান থেকে শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা ও ক্লাইমেট চেইঞ্জ নিয়ে কাজ করা হয়। টিভি চ্যানালের সাক্ষাৎকারে ফাতিহা বলেন, যদি জেনেটিক সায়েন্টিস্ট হই, বিভিন্ন খাবারের ডিএনএ প্রোফাইল আবিস্কার করে সেগুলোকে শিশুদের জন্য আরও বেশি পুষ্টিকর করতে চাই। ফাতিহা বলেন, কী হতে চাই জানি না, কিন্তু যা-ই হই না কেন, চাই সেই পেশাটা হোক শিশুদের জন্য। একটি নতুন পৃথিবী তৈরি হোক শিশুময়।

বহুমাত্রিক মেধার জন্য অল্প বয়সেই ফাতিহা অর্জন করেছে এন আর বি স্পেশাল টেলেন্ট অ্যাওয়ার্ড, আমেরিকার ন্যাশনাল ম্যাথ অলিম্পিয়াড অনারেবল মেনশন খেতাব, পেরিনিয়াম ম্যাথ টুর্নামেন্ট রিজিওনাল রাউন্ডে প্রথম, ন্যাশনাল অ্যাডভেনা আর্ট কম্পিটিশনে অ্যামেজিং আর্টিস্ট এওয়ার্ড সহ অসংখ্য পুরস্কার।

-এটি

সর্বশেষ সব সংবাদ