আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেছেন, নতুন কোনও টালবাহানা না করে আগস্টের মধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।
শুক্রবার (১৩ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর মজলিসে আমেলার সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বইয়ের জগৎ ছেড়ে ফেসবুক বা পাবজি গেমে কিংবা নেশার জগতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ ভুগছে চরম মানসিক সমস্যায়। এ পরিস্থিতিতে অভিভাবক, ছাত্র ও শিক্ষক সবাই উদ্বিগ্ন। তাছাড়া সবকিছু খোলা রেখে শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কি অর্থ আমাদের তা বুঝে আসে না। করোনার কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে যেসব সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি ও ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করবে। তাই নতুন কোন টালবাহানা না করে আগস্টের মধ্যে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।
নগর সভাপতি বলেন, শিক্ষাকে একটি জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। অথচ প্রায় দেড় বছর ধরে একটি জাতির সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই বর্ষে আটকে আছে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে সেশনজট, চাকরির ক্ষেত্রে বয়সের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে। সব কিছু মিলিয়ে একটি মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। তবুও সরকার কোন ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট আদান-প্রদান চলছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইনমেন্ট ভালোভাবে বুঝতে পারছে না বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে মতবিনিময় বা সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিনের জন্য হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট বুঝতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা জাতীয় কমিশন গঠন করে অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। শিফট পদ্ধতিতে বিভিন্ন রকম ক্যারিকুলাম প্রণয়ন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে হবে।
সংগঠনের সেক্রেটারী মাওলানা আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, জয়েন্ট সেক্রেটারী নূরুল ইসলাম নাঈম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী ফরিদুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন (পরশ), অর্থ সম্পাদক ডাক্তার মুজিবুর রহমান প্রমুখ।
-এএ