আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: চট্টগ্রামের বাঁশখালী মনকিচর এমদাদুল উলুম মাদরাসার মহাপরিচালক, প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মাওলানা আবু বকরের ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, হাটহাজারী মাদরাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
আজ (২০ জুলাই) মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আমীরে হেফাজত বলেন, মাওলানা আবু বকর রহ. চট্টগ্রামের একজন প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় ওয়ায়েজ ছিলেন। মানুষের ঈমান আকিদা বিশুদ্ধ করণে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজ করতেন। তাঁর ওয়াজ সকলের নিকট সমাদৃত ছিলো। ওয়াজ নসিহত ও দরস-তাদরীসের পাশাপাশি দীর্ঘদিন তিনি অত্যন্ত সুনাম- সুখ্যাতির সাথে বাঁশখালী মনকিরচর মাদরাসার মোহতামীমের গুরু দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মাওলানা আবু বকর রহ. আমাকে খুব বেশি মুহাব্বত করতেন। তার সাথে আমার হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। তিনি আমার সহপাঠী ছিলেন। দারুল উলুম হাটহাজারীতে আমরা একসাথে পড়েছি। তিনি আমার নিকট তাকরার (অনুশীলন) করতেন।
ছাত্র জমানার স্মৃতিচারণ করে বাশখালীর এক ওয়াজে মাওলানা আবু বকর রহ. আমাকে বলেছিলেন, কওমী সিলেবাসে যুক্তিবিদ্যার কঠিন কিতাব ‘মাইবুজি’ তিনি আমার নিকট তাকরার (অনুশীলন) করতেন। আমার নিকট তাকরার করে তিনি এ কিতাবের পরীক্ষা দিয়েছেন এবং পরীক্ষায় সফল হয়েছেন। আজ তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
এদিকে মেখল মাদরাসার সাবেক উস্তাদ, প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম মুফতী গোলাম কাদের (সাতকানিয়া হুজুর) এর সহধর্মিণীর ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন হেফাজত আমীর আল্লামা বাবুনগরী।
আল্লামা বাবুনগরী বলেন, সাতকানিয়া হুজুর আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন একজন ব্যাক্তি ছিলেন। তার জানাজার নামাজ আমি পড়িয়েছিলাম। আজ তার সহধর্মিণীও দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন।
সাতকানিয়া হুজুরের সহধর্মিণী নেককার সতীসাধ্বী একজন দ্বীনদার নারী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন রত্নগর্ভা মা। মাওলানা নোমান, মাওলানা লোকমান, মাওলানা ইমরানসহ তার ছয়জন ছেলে সকলকেই আলেম বানিয়েছেন। তার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।
উভয়ের শোক সন্তপ্ত পরিবার বর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আমীরে হেফাজত আল্লামা বাবুনগরী বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তায়া’লা তাদেরকে জান্নাতে উঁচু মাকাম দান করুন। আমিন।
এমডব্লিউ/