বিশ্বব্যাপী চলছে করোনা মহামারী। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ করোনা থেকে বাঁচতে লকডাউনের আশ্রয় নিয়েছে। তাতে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ‘একদিকে করোনা, অন্যদিকে লকডাউন’। এ যেন ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’। গরীবরা এমনেই মরা। লকডাউনে আরও মরছেন তারা। মাদরাসা শিক্ষকরা অধিকাংশই মধ্যবিত্তের ফ্যামিলির। করোনার একালে কেমন আছেন তারা। কিভাবে কাটছে তাদের দিনকাল? এ বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে আজ থাকছে দেশের দুই মাদরাসার দু’জন শিক্ষকের হালচাল। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ার ইসলামের নিউজরুম এডিটর মোস্তফা ওয়াদুদ।।
আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে, মুহতামিমদের উচিত করোনাকালে কোন শিক্ষকের বেতন বাকি না রাখা:মুফতি আরিফ জব্বার, শিক্ষক, জামিয়া উলুমে শরইয়্যাহ, গাজীপুর
গাজীপুর জেলার জামিয়া উলুমে শরইয়্যাহ মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি আরিফ জব্বার। ভারতের দেওবন্দ থেকে দেশে এসে গত দুই বছর আগে শিক্ষক হিসেবে এ মাদরাসায় নিয়োগ পান তিনি। নিয়োগের পর থেকেই অন্তত সুনামের সাথে পাঠদান করাচ্ছেন তিনি। পড়িয়েছেন একাধিক কিতাব। বর্তমানে বুখারী শরীফের দ্বিতীয় খণ্ডের কিতাবুল ফিতান থেকে শেষ পর্যন্ত দরস দিচ্ছেন। তবে মাদরাসা বন্ধ থাকায় নিয়মিত দরস দিতে পারছেন না তিনি।
নিয়মিত ক্লাস করাতে না পারার বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে দীর্ঘদিন মাদরাসা বন্ধ থাকায় ইলমের সাথে সেভাবে চর্চা হচ্ছে না। আমরা পড়তে ও পড়াতেই ভালবাসি। সুতরাং মাদরাসায় তালিম না দিয়ে যতটা ভালো থাকা যায়, আমরা তেমনই আছি।’
বেতনের কথা উল্লেখ করে মুফতি আরিফ জব্বার বলেন, ‘গতানুগতিক অন্যান্য মাদরাসার মতোই আমাদের বেতন কিছুটা বাকি থাকে। প্রতি মাসের বেতন প্রতি মাসে ক্লিয়ার হয় না। তবে আমাদের মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আশেকে মোস্তফা গাজীপুরের একজন শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি আলেম। তার আরও মাদরাসা রয়েছে। আমাদের মাদরাসায় শিক্ষক বেশি হওয়ার কারণে তিনি সব সময় বেতন পরিশোধ করতে পারেন না। তবে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করার বিষয়ে তিনি খুবই সচেতন ও আন্তরিক।’
মাদরাসার এ শিক্ষক করোনাকালে কিতাব মুতালায়া, আবাসিক ছাত্রদের হাতের লেখা ও বিভিন্ন ইসলামী গবেষণায় সময় পার করছেন বলে জানালেন।
সাধারণ মুহতামিমদের প্রতি আহবান করে এ মাদরাসা শিক্ষক বলেন, ‘যদি মাদরাসার আর্থিক অবস্থা ভালো থাকে। তাহলে যেন করোনাকালের এই কঠিন মুহূর্তে অন্তত সাধারণ শিক্ষকদের পরিবার চলার মত