সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ ।। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২২ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে শঙ্কা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকেরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়: সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না: ইরান ৩০টি নোটিশ দিয়েছি, কোনটার ওপর বলব জানি না: সংসদে আমির হামজা বিদ্যুৎ ও তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নয়, দুর্নীতি বন্ধ করুন: বিকেএম মমতার কেন এই বিপর্যয়, বিজেপির কেন এই উত্থান? এবার ২ লাখ ফলদ চারা রোপণ করবে আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ চায় নেজামে ইসলাম পার্টি পলাশবাড়ীর ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে জনমনের উদ্বেগ দূর করুন: হেফাজত নতুন চেয়ারম্যান পেল মাদরাসা বোর্ড

অভাব মুক্ত সমাজ গড়তে জাকাতের বিকল্প নেই: মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন
শ্রুতিলিখন- যাকওয়ানুল হক চৌধুরী

আমরা পানাহার করি, পানাহার থেকে বিরত থাকি আল্লাহর আদেশেই। এর অর্থ হলো আমরা তাঁর আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছি। এখন আমরা রোজা রাখছি, না খেয়ে থাকছি আল্লাহর হুকুমের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য। এর বিনিময়ে আমরা পুরস্কার পাবো। রোজা রাখার কারণে আল্লাহর প্রতি বান্দার যে ইমান এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক রয়েছে, এর মধ্যখানে কোন আড়াল থাকে না। যেহেতু কোন ধরণের বাধা ছাড়া আল্লাহর সাথে সম্পর্ক থাকে।

হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ বাব্বুল আলামিন বলেছেন- ‘রোজা আমার জন্যই, এর পুরস্কার আমার হাতেই দেব।’

অন্যান্য আমলের প্রতিদান বান্দা বেহেস্তে গিয়ে পাবে। কিন্তু রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দিবেন। রমজানের রোজার বড় একটি বিষয় হলো যে, এর দ্বারা মানুষের ইমান সজিব হয়, মানুষের ইমানের শেকড়ে নতুন করে প্রাণ সঞ্চারিত হয়। ফলে দেখা যায়; ইমানের আরো যেসকল দাবী আছে, ওই দাবী পূরণ করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়। হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সরাসরি আল্লাহর তরফ থেকে ইমান নিয়ে এসেছেন। তাঁর কাছ থেকে যারা ইমান গ্রহণ করেছেন, তাদের ইমান আর আমাদের ইমান কি সমান হবে? ইমান যত মজবুত হবে, ইসলামের দাবী তত সুন্দর ও উজ্জ্বলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জিহাদের উদ্দেশ্যে কোন বাহিনী প্রেরন করতেন,তাদেরকে এই মর্মে নির্দেশ দিতেন যে, তোমরা সেই এলাকায় গিয়ে সেখানের লোকদের ইমানের দাওয়াত দিবে। তারা ইমান এনেছে এটা বুঝার উপায় হলো, তখন তাদেরকে নামাজের দাওয়াত দিবে। যদি নামাজ আদায় করে, তাহলে তাদের মধ্যে যারা বিত্তশালী তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ জাকাত আদায় করতে হবে। যদি তারা জাকাতও আদায় করে, তাহলে তাদের জান-মাল-ইজ্জতের নিরাপত্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে চলে আসবে। এখন কেউ তাদের উপর হামলা করতে পারবে না।

ইমান কোন ব্যক্তি আনলো কিনা, সেটা তার ভেতরের বিষয়। বাহির থেকে ইমান বুঝার মাপকাঠি হলো- সে নামাজ পড়ে কিনা, সে জাকাত দেয় কিনা? নামাজ এবং জাকাত হলো ইমানকে বাহির থেকে মাপার মাপকাঠি, আলামত। আল্লাহর রাসুল দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার সাথে সাথে যেসব ফিতনা দেখা দিয়েছিল, তারমধ্যে অন্যতম একটা হলো জাকাত না দেওয়া। একদল লোক বলতে লাগলো- আল্লাহ তাঁর পয়গাম্বরকে আদেশ করেছেন, আমরা তাঁর হাতে জাকাত তুলে দিয়েছি, এখন তিনি দুনিয়াতে নাই, এখন আমরা কাকে জাকাত দিবো? আমরা জাকাত দিবো না।

তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘোষণা করলেন- যারা পয়গম্বরের সময় জাকাত দিতেন, তারা যদি উটের রশি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। সামনে উমর রাদিয়াল্লাহ আনহু বসা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- কীভাবে আপনি এমন ব্যক্তির সাথে যুদ্ধ করবেন, যে আমাদের কেবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে? আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাদেরকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দ্বীনের উপর রেখে গেছেন, তাতে নামাজ এবং জাকাত এক সঙ্গে, উভয়টাতে কোন পার্থক্য নাই৷ সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ এবং জাকাত আলাদা করবে তার বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধ।

যদি আপনাকে ইসলাম মানতে হয়; তাহলে সেভাবেই মানতে হবে, যেভাবে পয়গাম্বর রেখে গেছেন। কমানোও যাবে না, বাড়নোও যাবে না। আল্লাহ যে জাকাতের বিষয়ট রেখেছেন, যদি কোন সমাজ পরিপূর্ণ ইসলাম পালন করে, তাহলে এই সমাজ দুনিয়াকেই মনে হবে তার বেহেস্তের সমান। যদি এক বছর বাংলাদেশে পরিপূর্ণ জাকাত আদায় করা হয়, তাহলে পেঠের দায়ে যে চুরি করা, সেটা বাংলাদেশে থাকবে না।

যদি সবাই জাকাত দেয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে কেবল ধনীরা খাবে, গরিবরা খেতে পারবে না, বিষয়টা এমন না। যারা জাকাত দিবে না, তাদের সম্পদ জমা হতে হতে পাহাড় হয়ে যাবে৷ বিষয় এমনও না। সবই আল্লাহর দান। সকল মাখলুকের প্রতি তাঁর দরদ সমান। যদি এই মায়া সমান না থাকতো তাহলে তো কেবল নামাজি লোকদের হার্ড কিডনি শরিল ঠিক থাকতো। তাদেরকেই দেখলে কেবলমাত্র ভালো লাগতো।

মানুষের মধ্যে দুরকমের সৌন্দর্য। এক রকমের সৌন্দর্য্য হলো আল্লাহর দেয়া সৌন্দর্য্য, আরেকটা হলো আহরিত সৌন্দর্য্য। আল্লাহর দেয়া সৌন্দর্য হলো বয়সের সঙ্গে একটা সম্পর্ক আছে৷ আহরিত সৌন্দর্য হলো- কোটিপতি লোক ৭৮ বছর বয়সেও মেকাপ করে বের হন, তার চেহারা সৌন্দর্যের চেয়ে দেখতে ভয় লাগে বেশি। আল্লাহ যদি ভেতর থেকে সৌন্দর্য্য শুকিয়ে দেন, তাহলে বাহির থেকে কেউ তা আরোপ করতে পারে না। করলে সেটা আরো ভীতিকর হয়ে যায়। যে আল্লাহ মানুষকে সমানতালে ভালোবাসেন, আল্লাহ চাইলে কি এটা করতে পারতেন না যে, দুনিয়ার সব মানুষ সমান সম্পদের অধিকারী হবে? এ পার্থক্যটা আল্লাহ বুঝেই রেখেছেন। সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এটি রেখেছেন। জাকাত এটি ধনীদের অনুদান নয়। এটি গরিবের হক্ব বা অধিকার।

আল্লাহ আমাদের কে সঠিকভাবে বুঝার তাওফিক দান করুন। ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।।

-কেএল


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ