সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬ ।। ২ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
আল-কায়েদা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাবির ফজলুল হক হলের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন  শরিয়ার আলোকে ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ার প্রত্যয় বিআইসিসিআইয়ের নাটোরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে খড় ব্যবসায়ীর মৃত্যু হাদিসের আলোকে দরুদ পাঠের পাঁচ উপকারিতা মমেক হাসপাতালে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু সাগরে নিম্নচাপ, সারাদেশে ভারী বর্ষণের শঙ্কা  মুসলিমদের যারা সন্ত্রাসী বলে তারাই প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসী: মাওলানা আরশাদ মাদানী সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ১৫ লাখ রিয়াল পুরস্কার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাগত

টাকার বিনিময়ে অন্যের যাবজ্জীবনের সাজা খাটছেন নারী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ বছর ৯ মাস ধরে অন্যের সাজা খাটছেন মিনু আকতার নামে এক নারী। টাকার বিনিময়ে তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুমা আকতার নামে অপর এক নারীর পরিবর্তে সাজা খাটছেন।

বিষয়টি কারাকর্তৃপক্ষের নজরে এলে আদালতকে অবহিত করা হয়। আদালতের পেশকার ওমর ফুয়াদ জানান, মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে মিনু আকতারকে তোলা হয়।

জেলখানার ছবি-সংবলিত রেজিস্ট্রার খাতা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারে কারাগারে থাকা নারীর সঙ্গে প্রকৃত আসামির ছবির অমিল রয়েছে। এ আসামির জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল রয়েছে। যার নম্বর-৪২৯৩/১৯। এ কারণে বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করা হবে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে নগরীর কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিক কোহিনূর আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

এরপর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অপর পোশাক শ্রমিক কুলসুমা আক্তার। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। মামলায় পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে কোহিনূরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে রিপোর্ট দিলে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুমা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজা হওয়ার আগে ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর এ মামলায় কারাগারে যান কুলসুমা।

তিনি ১ বছর তিন মাস কারাভোগ করেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর করেন। কুলসুমা আকতার ওই দিন কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তারের পরিবর্তে মিনু আকতার ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। ২ বছর ৯ মাস ধরে সাজা খাটছেন। ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানান। পরে বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি কুলসুমা আকতার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মাঝের পাড়ার আনু মিয়ার মেয়ে। বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয় কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি। অপরদিকে কুলসুমা সেজে কারাভোগকারী মিনু আকতার থাকত সীতাকুণ্ডের ছিন্নমুখ কলোনিতে। স্বামী হারা মিনু আকতারের তিন সন্তান রয়েছে।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ