বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ।। ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২৩ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালী দিয়ে এক লিটার তেলও বের হতে দেব না: ইরান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেতন ও কর্মদিবস কমাল পাকিস্তান আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‘ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলায় বিশ্ব শান্তি হুমকির মুখে’ যে কারণে কওমি মাদরাসা আপনার জাকাত ও দানের বেশি হকদার যুব সংগঠক আমিনুল ইসলাম সাদীকে জাতীয় পদকে ভূষিত করার দাবি ‘নিরাপদ অভিবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন আলেমরা’ নানুপুর মাদরাসায় ৪০ দিনের ইতেকাফে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর টেকনাফে কওমি পড়ুয়া আব্দুল্লাহ সাঈদের ধারাবাহিক সাফল্য

টাকার বিনিময়ে অন্যের যাবজ্জীবনের সাজা খাটছেন নারী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ বছর ৯ মাস ধরে অন্যের সাজা খাটছেন মিনু আকতার নামে এক নারী। টাকার বিনিময়ে তিনি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুমা আকতার নামে অপর এক নারীর পরিবর্তে সাজা খাটছেন।

বিষয়টি কারাকর্তৃপক্ষের নজরে এলে আদালতকে অবহিত করা হয়। আদালতের পেশকার ওমর ফুয়াদ জানান, মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে মিনু আকতারকে তোলা হয়।

জেলখানার ছবি-সংবলিত রেজিস্ট্রার খাতা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রেজিস্ট্রারে কারাগারে থাকা নারীর সঙ্গে প্রকৃত আসামির ছবির অমিল রয়েছে। এ আসামির জামিনের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল রয়েছে। যার নম্বর-৪২৯৩/১৯। এ কারণে বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করা হবে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে নগরীর কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিক কোহিনূর আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করা হয়।

এরপর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অপর পোশাক শ্রমিক কুলসুমা আক্তার। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। মামলায় পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে কোহিনূরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে রিপোর্ট দিলে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

এ মামলায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুমা আক্তারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজা হওয়ার আগে ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর এ মামলায় কারাগারে যান কুলসুমা।

তিনি ১ বছর তিন মাস কারাভোগ করেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জামিন মঞ্জুর করেন। কুলসুমা আকতার ওই দিন কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তারের পরিবর্তে মিনু আকতার ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান। ২ বছর ৯ মাস ধরে সাজা খাটছেন। ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানান। পরে বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর তিনি বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামি কুলসুমা আকতার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার মাঝের পাড়ার আনু মিয়ার মেয়ে। বর্তমান ঠিকানা দেখানো হয় কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জ সাঈদ ডাক্তারের ভাড়া বাড়ি। অপরদিকে কুলসুমা সেজে কারাভোগকারী মিনু আকতার থাকত সীতাকুণ্ডের ছিন্নমুখ কলোনিতে। স্বামী হারা মিনু আকতারের তিন সন্তান রয়েছে।

এনটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ