কাউসার লাবীব: সাইয়েদুনা হযরত ইবরাহীম খলীল আ. মানবজাতীর কল্যাণার্থে মহান আল্লাহ তা‘আলার দরবারে হযরত ইসমাইল আ. এর বংশে বিশেষ গুণাবলী সম্পন্ন একজন রাসূল প্রেরণের আবেদন জানিয়েছিলেন। কুরআনের ভাষা:
{رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ} [البقرة : ١٢٩]
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্যে (হযরত ইসমাইল আ. এর খান্দানে) এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদেরই মধ্য হতে হবেন এবং যিনি (১) তাদের সামনে আপনার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন। (২) তাদেরকে কিতাবও (৩) হিকমত শিক্ষা দিবেন এবং (৪) তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। (সূরা বাকারা-১২৯)
মহান আল্লাহ তা‘আলা হযরত ইবরাহীম আ. এর এই আবেদন কবুল করে সাইয়েদুনা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আখেরী নবী ও সর্বশেষ রাসূল হিসেবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
{لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [آل عمران : ١٦٤
অর্থ : আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের প্রতি অতি বড় অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মাঝে তাদেরই মধ্যে হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি (১) তাদের সামনে আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন (২) তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং (৩) তাদেরকে কিতাব ও (৪) হিকমত শিক্ষা দেন। (সূরা আলে ইমরান-১৬৪)
লক্ষ্য করুন, হযরত ইবরাহীম আ. আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে চার গুণ বিশিষ্ট রাসূলের আবেদন করেছিলেন, হুবহু সেই চার গুণ বিশিষ্ট রাসূলেরই সুসংবাদ এই আয়াতে দেয়া হল। তবে এখানে গুণাবলীর ধারাবাহিকতায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবেদনের ক্ষেত্রে পরিশুদ্ধ করণের গুণটিকে বলা হয়েছে চার নাম্বারে আর সুসংবাদের ক্ষেত্রে সেটিকে আনা হয়েছে দুই নাম্বারে। আহলে দিল উলামায়ে কেরাম এর দু’টি হিকমত বর্ণনা করেছেন, (১) আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব সঠিকভাবে তুলে ধরতে এটা করা হয়েছে। (২) একথা বুঝানোর জন্য যে, নববী যিম্মাদারীর ধারাক্রম অনুযায়ী এটি চতুর্থ স্থানে হলেও কার্য ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব সবার উপরে। বরং এটি দীনী সকল কাজের দিল এবং পূর্ব শর্ত। এটা ছাড়া দীনের খেদমত অর্থহীন। বরং ক্ষেত্র বিশেষে নিজের জন্য ও দীনের জন্য ক্ষতির কারণও বটে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সকল নবী রাসূলের আ. দীন কায়েমের তরীকা ছিল এক ও অভিন্ন। সেটা হল দীনের জরুরী পাঁচটি বিষয় (ঈমানিয়্যাত, ইবাদাত, মু‘আমালাত, মু‘আশারাত ও তাযকিয়া) বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে উল্লেখিত চার তরীকায় মেহনত করা। মেহনতের এ বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে কারীমের চার স্থানে বর্ণনা করেছেন। যথা সূরা বাক