শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৭ রজব ১৪৪৭


বিক্ষোভকারীদের লিফলেটে কী আছে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্দামান নওশাদ: আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর এ জামিয়ার ময়দানে হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা বিভিন্ন রকমের স্লোগানে উত্তাল করে তোলে পুরো মাদরাসা মাঠ। এ বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে, কিছুদিন পূর্বে মাদরাসার একজন শিক্ষক শায়খ আহমদকে নিচ থেকে টেনে শীর্ষপদে পদায়ণ করা, মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা শফী মাজুর হওয়া সত্ত্বেও স্বপদে বহাল থাকা, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া ও মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আনাস মাদানি ছাত্রদের সাথে দমন-পীড়ন নামক বিরুপ আচরণের কারণে এ বিক্ষোভের সূচনা হয়েছে বলে জানা যায়।

বিক্ষোভকারীরা ‘অশান্ত কওমী মাদরাসা: অস্পষ্ট ভবিষ্যত’ শিরোনামে একটি লিফলেট বিতরণ করেছে। যাতে লেখা আছে-

‘প্রিয় ছাত্র সমাজ। আস সালামু আলাইম। মুবারক একটি সূত্র ধারণ করেই আমরা নিবিড়ভাবে রেসালাতে মুহাম্মদী (সা.) এর সাথে আবদ্ধ। এ সূত্র সভ্যতার হাজার বছরের দীর্ঘ সফর ও তার নানা রূপান্তরশীল বিবর্তন সত্ত্বেও আমাদের পূর্বসূরি সালফে সালেহীনে সাথে যুক্ত রেখেছে। সে সূত্র ও সনদের নাম হলাে দেওবন্দ। এ ইসনাদই আমাদের পরিচয় ও শক্তি। আকাবিরগণ অসংখ্য সুযােগ-সুবিধা হাজারাে হাতছানির মাঝেও সালাফের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে প্রনয়ণ করেছেন উসুলে হাসগনা' না অষ্টমূলনীতি।

যে সময় বুযুর্গ আকাবেরগণ তাহরীকে দেওবন্দের তালিমী, দাওয়াতি ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর চেতনার বাতি উজ্বলিত করেন। সে সময় ভারতবর্ষের আঞ্চলিক ও আন্তজাতিক আবহে অবস্থা কতটা বৈরি ছিল তা সকলের জানা। কিন্তু তাদের ইখলাছের ভিত এতোটাই মজবুত ছিলাে যে, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশ ও আশেপাশের গ্রামে তাদের সন্তান-কওমীরাই আজ প্রদান সামাজিক শক্তি বলে স্বীকৃত। এ দেওবন্দের বিশাল ইলমী-দাওয়াতি-জিহাদী-সিয়াসি-রুহানী সৌরজগতের দিগন্তে দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী এক অনন্য দীপ্যমান নক্ষত্র।

এটি পুরাে বাঙ্গালি মুসলিম সমাজের প্রধান কেন্দ্রীয় ঠিকানা। তার অপ্রতিদ্বন্দ্বী গৌরবােজ্বল সামাজিক মর্যাদার আসন তার জন্যই বরাদ্ধ। এদেশের সাধারণ মুসলমান ও আলেম-ওলামার হৃদয়ে আস্থা এবং সানের উচ্চ আসনে জায়গা করে নিয়েছে এই মাদ্রাসা। সুতরাং এই মাদরাসার ফিতনা-ফাসাদ সকল মাদরাসার জন্য ফিতনা-ফাসাদের কারণ হবে। আর এই মাদরাসা সঠিক পথের উপর থাকলে সকল মাদরাসা সঠিক পথের উপর থাকবাে।

প্রিয় মুসিলম ভাইয়েরা! দারুল উলুম হাটহাজারী তার কেন্দ্রীয় অবস্থান থেকে বাংলাদেশের ক্রান্তিকালে ইসলাম বিদ্বেষী জাতীয় আন্তজাতিক চক্রের বিরুদ্ধে যে শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রদান করেছে তা কি ইতিহাসের গুরুত্ত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট নয়? তা কি আগামী প্রজন্মের জানা ইসলামি আন্দোলনের পথে স্পষ্ট মাইলস্টোন ছিলাে না? তা কি দারুল উলুম হাটহাজারীকে ইহিতাসের সর্বোচ্চ মর্যাদায় সমাসীন করেনি?

কিন্তু! কারা আজ আমাদের উসূলে হাগানাহ তথা সালফে সালেহীনের গৌরবজ্জ্বোল ঐতিহ্যের বিস্মৃতি ঘটিয়ে শাসকগোষ্ঠীর তাল্পিবাহকের পর্যায়ে নামিয়েছে? কারা আজ পুরাে জাতীর সামনে আমাদের বিদ্রুপের পাত্রে পরিনত করেছে?

নিশ্চয়ই এসবের উত্তর আপনাদের অজানা না, তাদের পরিচয় ও অপকর্মের বৈশিষ্ট্য অস্পষ্ট নয়। তাই আমাদের সংগ্রাম আদর্শিক, এটা স্বার্থগত বিষয় নয়। আজ আমরা প্রতিবাদে মেতে উঠেছি। প্রতিরােধের জন্য প্রস্তুত হয়েছি বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে। আল্লাহ তায়ালার কাছে জবাবদিহিতা ও বান্দার নিকট ইতমামে হুজ্জাতের জায়গা থেকে একান্ত আদর্শিক চেতনায় এ লড়াইয়ে উপনীত হয়েছি। যে সিন্ডিকেট চক্র পরােক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভূমিকা দারুল উলুম হাটহাজারীর শতবর্ষী ঐতিহ্যকে ধূলিসাৎ করে বৃহত্তর কওমি সমাজ তথা সাধারণ হকপন্থী মুসলিম সমাজের গণচেতনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের আদর্শিক ও নৈতিক স্খলনের উপাখ্যান আবার একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।

এক. কওমি সনদের স্বীকৃতি কওমি গোষ্ঠীর অন্যতম অধিকার। উক্ত স্বীকৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারী-বেসরকারী কর্তৃপক্ষ সাধুবাদ পেতেই পারে।কিন্তু শুকরিয়ার নামে শরীয়া পরিপন্থি মহরা দিয়ে তারা সরকার ও জনগণের কাছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভাবমূতি বিনষ্ট করে।

দুই. কওমি সমাজ একটি অরাজনৈতিক প্লাটফরম। আমাদের সাথে সরকারের যোগাযােগ হবে নৈতিক, আর্থিক সুবিধা ছাড়া এবং তা হতে হবে প্রকাশ্য। কিন্তু তাদের যােগাযােগ ছিল সম্পূর্ণ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের লক্ষ্যে এবং গোপন যোগাযোগের মাধ্যম।

তিন. তারা সরকারকে ব্লাকমেইল করে সুবিধা হাসিলের জন্য গােয়েন্দা সংস্থা গুলোকে বারবার কওমি শীর্ষ ও তরুণ আলেমদের তালিকা সরবরাহ করে আসছে।

চার. অভ্যন্তরীণ দূর্নীতি: হাটহাজারী মাদরাসা, হেফাজতে ইসলাম ও কওমি বাের্ডে আমানতের ভয়ঙ্কর খিয়ানতের সাথে তারা যুক্ত। ইতিমধ্যে যা প্রকাশিত হয়েছে তা বাস্তবতার চাইতে অতি নগন্য।
পাঁচ. আল্লামা আহমদ শফি সাহেব হুজুরের পাশে অবৈধ বলয় গড়ে তুলে তার সঙ্গে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, ওলামায়ে কেরাম ও আমজনতার প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গের গভীর বিভাজন ও দুরত্ব তৈরি করে অসংখ্য বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে নস্যাৎ করা হয়েছে। ছয়. মরুব্বিনামক একতরফা স্বৈরাচারী ট্রাম্পকার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বেফাকের উপর জবদখলের সংস্কৃতি চর্চা করা হয়েছে। এতে কওমি মাদরাসার সুনাম জাতীয়ভাবে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাত. যােগ্য উস্তাদের বিদায় করে অযোগ্যদের নিয়ােগ দেওয়া হয়েছে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে।

আট. শাপলাচত্তরসহ নানা সময়ে শাহাদাত বরণকারীদের পরিবার ও আহত সদস্যদের কোন খোজখবর নেওয়া দুরের কথা বরং তাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে।

নয়. সাধারণ নিরীহ ওস্তাদ ও ছাত্রদের উপর আনাস মাদানীর নির্যাতন ও অধিকার হারা করা।

চুড়ান্ত পয়গাম

এক. মাওলানা আনাস মাদানীকে অনতিবিলম্বে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
দুই. ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা প্রদান ও সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
তিন. শায়খুল হাদিস আল্লামা আহমদ শফী অক্ষম হওয়ায় মহাপরিচালকের পদ থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে।
চার. উস্তাদদের পূর্ণ অধিকার ও নিয়োগ-বিয়োগকে শুরার নিকট পূর্ণ ন্যস্ত করতে হবে।
পাঁচ. বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে।

এমডব্লিউ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ