আওয়ার ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে ঢালাও অভিযোগ সঠিক নয়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ অপরাধ করলে, ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংসদ নেতা।
গতকাল (বৃহস্পতিবার ) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আপনারা বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কথা বলছেন। কিন্তু এটা কে শুরু করেছিল? এটি শুরু হয়েছিল জিয়াউর রহমানের আমলে। তখন আমাদের অনেক নেতাকর্মীর লাশ পাওয়া যায়নি এবং এরপরে, এটি (বিচার বহির্ভূত হত্যা) প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। আমরা এর ধারাবাহিকতা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমালোচনা করার ক্ষেত্রে সকলকে বাস্তববাদী ও গঠনমূলক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে তারা (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যেন এ কাজে তাদের উদ্যম হারিয়ে না ফেলে।
তিনি বলেন, ‘একই সাথে আমাদেরও ভাবতে হবে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাদক, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে এবং তারা এ ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে।’
তিনি সকলকে মনে করিয়ে দেন যে তার সরকার কোনও (অপ্রত্যাশিত) ঘটনা ঘটলে কাউকে ছাড় দিচ্ছে না। তারা অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী এমন এক সময় এসব মন্তব্য করেছেন যখন রাজধানীর পল্লবী থানার তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে ছ’বছর আগে এক যুবককে থানা হেফাজতে পিটিয়ে মারার দায়ে এবং যখন পুলিশ পদকপ্রাপ্ত একজন ওসি’র বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভুত একাধিক হত্যার অভিযোগের তদন্ত চলছে।
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার হত্যা নিয়ে যখন দেশব্যাপী সমালোচনার ঢেউ বইছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল ।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসংগে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির রেডিও তেহরানকে বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা বেআইনি কিছু করলে বা আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তাদের সমালোচনা করা নাগরিকদের কর্তব্য। সরকারকেই এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বে-আইনি পথে না চলে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিশ কেন্দ্র তাদের সর্বশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, চলতি বছর (২০২০) জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ২১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন র্যাবের হাতে, ৫৮ জন পুলিশের হাতে, ৮ জন ডিবি পুলিশের হাতে এবং ২২ জন বিজিবি’র হাতে নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৪৬ জন নিহত হয়েছেন গ্রেপ্তারের পূর্বেই। আর ৩৯ জন নিহত হয়েছেন গ্রেপ্তারের পর।
-এটি