শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৭ রজব ১৪৪৭


‘অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের নির্দেশনা মানছে না সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: পুরান ঢাকার নিমতলী ও চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার বাংলাদেশ (টিআইবি)।

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম কেন সরানো হবে না- মর্মে আদালতের কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দীর্ঘ ১০ বছরেও না দিয়ে সরকার আদালত আদালত অবমাননা করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি এসব অভিযোগ করা হয়। অগ্নিদুর্ঘটনা হ্রাস ও অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিআইবির প্রতিবেদনে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

‘নিমতলী, চুড়িহাট্টা এবং অতঃপর পুরনো ঢাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিমতলী ও চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডকে বিক্ষিপ্ত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সুশাসনের ঘাটতির একটি প্রকট দৃষ্টান্ত। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্বশীল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবগুলো প্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এবং হচ্ছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনার পর নানা সুপারিশ ও নির্দেশনা দেয়া হলেও তা অবলীলায় অমান্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

‘এরপরও আরও দুর্ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এক্ষেত্রে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অবলীলায় সরকারী নির্দেশনাই অমান্য করে চলেছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মানা হয়নি, যা দায়িত্বহীনতা, সুশাসনের ঘাটতি ও অনৈতিকতার দৃষ্টান্ত’।

তিনি বলেন, রাসায়নিক গুদাম সরিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ এবং অসৎ ব্যবসায়ীদের ত্রিমুখী আঁতাত চলছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার পরিষ্কার ঘাটতি রয়েছে। একে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের পোয়াবারো অবস্থা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঝে মাঝেই তল্লাশির নামে জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায়ের এক ধরনের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের জন্যও দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যত দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রাসায়নিক বিপর্যয় রোধে জাতীয়ভাবে একটি রাসায়নিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, রাসায়নিক নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি ও নীতিমালা প্রণয়ন, এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে বোঝানো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানা চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করাসহ অগ্নিকাণ্ড এড়াতে ১০ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি।

গবেষণায় পুরনো ঢাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয় চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের অগাস্ট পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।

গবেষণার বরাত দিয়ে টিআইবি জানিয়েছে, ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে যথাক্রমে ২৩৯৭টি, ১৯৭৭টি এবং ২৯৫৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ২০১৮ সালেই পুরোনো ঢাকায় অন্তত ৪৬৮টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ