আওয়ার ইসলাম: মরেনি শুনে বুকের বাম পাশে লাথি মারেন এবং গলায় পা দিয়ে ধরেন ওসি প্রদীপ। ইন্সপেক্টর লিয়াকত এবং এসআই নন্দদুলালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।
ইন্সপেক্টর লিয়াকত জানিয়েছেন, ওসি প্রদীপ তাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, এই এলাকায় একটি দল ছবি তোলার নাম করে মাদক পাচার করছে। তাদেরকে দেখামাত্রই যেন শেষ করে দেওয়া হয়। কথামতো শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন লিয়াকত ও নন্দদুলাল। সিনহার গাড়ি চেকপোস্টে আসলে নন্দদুলাল থামানোর কাজটি করেন।
মেজর সিনহা যখন গাড়ি থেকে নামছেন তখন মুহূর্তকাল দেরি না করে তাকে ৪ রাউন্ড করে গুলি করেন লিয়াকত। তবে তখনও সিনহা মারা যাননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ওসি প্রদীপ। রক্তাক্ত সিনহা তখনও মাটিতে পড়ে আছেন। ওসি প্রদীপ, লিয়াকতকে জিজ্ঞাসা করেন, মরে গেছে কিনা। জবাবে ‘না’ বলেন লিয়াকত। এরপর ‘প্রায় মৃত’ সিনহার বুকে একের পর এক লাথি মারতে থাকেন প্রদীপ।
লিয়াকত আরও জানান, এক পর্যায়ে গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন প্রদীপ। এর মধ্যেই শেষবারের মতো অস্ফূট স্বরে কয়েকবার পানি চেয়েছিলেন মেজর সিনহা। তবে তাকে পানি দেওয়া হয়নি। গলায় চাপা দিয়েই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে প্রদীপ। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত হলে উল্লাস করতে থাকে ওসি প্রদীপ।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ‘গাড়ি তল্লাশিকে’ কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ঘটনার পর বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দু’টি ও রামু থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
-এএ