আবদুল্লাহ তামিম।।
বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশের সর্বস্তরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সানাবিয়া, মুতাওয়াসসিতাহ, ইবতিদাইয়্যাহ মারহালার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা খুব শিগগিরই নেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বোর্ডটির মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ আলী আওয়ার ইসলামকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, বেফাকুল মাদারিসিদ্দীনিয়া বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে ছাত্রদের ভবিষ্যতের বিষয়ে চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে যে কোনো দিন তাদের ফযিলত মারহালার সনদের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কষ্ট হলেও আমরা পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি জানান, মাদরাসা খোলার অনুমতি দেওয়ায় আমরা মাননীয় সরকার প্রধান ও যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি।
এর আগে জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবাের্ডের এক বিশেষ প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেশের সকল কওমি মাদরাসা খুলে দেয়ার জন্য আবেদন করে। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে সার্বিক অবস্থা পর্যালােচনা করে সরকার কতৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এক্ষেত্রে কতৃপক্ষকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করার জন্য অনুরােধ করা হয়।
এদিকে সরকারী প্রজ্ঞাপনের উপর ভিত্তি করে কওমি মাদরাসা খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কওমি মাদরাসার বোর্ডগুলো। গত বুধবার কওমি মাদরাসা খোলার বিষয়ে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে ‘কওমি মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি প্রদান সম্পর্কিত ওই প্রজ্ঞাপনের সূত্র নং- ৫৭.০০.০০০০.০৮৫.৬৯.০০৬.১৫-১৪৬ তারিখ ০৯ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪ আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় উপযুক্ত বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করে নিম্নবর্ণিত শর্তে (প্রয়ােজনে স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিং-এর মাধ্যমে) কওমী মাদরাসাসমূহের কিতাব বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হলো।
ক, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস ও মাথায় নিরাপত্তা টুপি পরিধান করা আবশ্যক। খ, মাদরাসায় প্রবেশের পূর্বে মূল প্রবেশদ্বারে স্যানিটাইজিং করতে হবে। গ, শিক্ষার্থীরা তার নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করবে। বিক্ষিপ্তভাবে এদিক সেদিক চলাফেরা করবে না। ঘ, একজন শিক্ষার্থী থেকে অপর শিক্ষার্থী কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান করবে। ঙ. কোভিড-১৯ এর কারণে কোলাকুলি ও মুসাফাহা করবে না। চ, শিক্ষক ও কর্মচারীগণও একইভাবে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্লাস গ্রহণ করবেন।
-এটি