আওয়ার ইসলাম: মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট, সার্জিক্যাল সামগ্রীসহ নানা অনিয়ম পাওয়ায় ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে এসব অনিয়ম ঠিক করতে আগামী সাত দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালটিতে অভিযান শুরু হয়। বিকেলে শেষ হওয়া এতে নেতৃত্ব দেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।
অভিযান শেষে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, টেস্টিং কিট ব্যবহার, বিপুল পরিমাণে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে। অন্য হাসপাতাল থেকে রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে নিজেদের প্যাডে রিপোর্ট দিতো। হাসপাতালের রোগীদের রক্তের স্যাম্পল সংগ্রহ করে একসঙ্গে রাখতো। ল্যাবে আমরা বেশকিছু প্যাট্রিটিডিক্স পেয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী একজন রোগীর রক্তের স্যাম্পল রাখার জন্য একটি প্যাট্রিটিডিক্স ব্যবহারের কথা। তবে হাসপাতালের ল্যাবে একটি প্যাট্রিটিডিক্সে একসঙ্গে তিনজন রোগীর রক্তের স্যাম্পল রাখা হতো। এতে আমরা ধারণা করছি, হাসপাতালে রোগীদের রক্তের সব পরীক্ষা রিপোর্ট ভুয়া হয়েছে।
সারওয়ার আলম বলেন, হাসপাতালের ১২ ও ১৩ তলায় কোভিড-১৯ ইউনিট করা হয়েছে। একই ফ্লোরে রয়েছে হাসপাতালটির মাইক্রো বায়োলোজিক্যাল ল্যাব। ওই তলায় বাম পাশে কোভিড-১৯ ইউনিট এবং ডান পাশে ল্যাব। কোনো হাসপাতালে কোভিড-১৯ ইউনিট ও মাইক্রো বায়োলোজিক্যাল ল্যাব একই ফ্লোরে একসঙ্গে থাকতে পারে না। মাইক্রো বায়োলোজিক্যাল ল্যাব থাকলেও সেখানে কোনো মাইক্রো বায়োলোজিস্ট ছিল না। ল্যাবের অবস্থাও খুব খারাপ দেখা যায়। ব্লাড সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়নি। সাধারণভাবে ফ্রিজিং করতে দেখা যায়।
এসব অনিয়মের কারণেই তাদের ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে এ সময় জানান র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হাসপাতাল) উম্মে সালমা তানজিয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক অনিয়ম পেয়েছি। কোভিডের যে প্রটোকল মানা উচিত, তার কোনোটাই তারা মানেনি। তাদের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব ও করোনা ইউনিট একই জায়গায়। যে কোয়ালিটি সম্পন্ন সেবা দেয়ার কথা তারা সেটা দিচ্ছেন না।
-এএ