আওয়ার ইসলাম: ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) চুল্লিপাত্র (রিয়্যাক্টর ভেসেল) ও একটি স্টিম জেনারেটর রূপপুর পরমাণু কেন্দ্রের জন্য সমুদ্রপথে যাত্রা করেছে।
জানা যায়, ভিভিইআর-১২০০ চুল্লিবিশিষ্ট পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ‘থ্রি-প্লাস (৩+’ জেনারেশন শ্রেণিভুক্ত। এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে নতুন ‘নিষ্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা (passive safety systems)’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপারেটরের সহায়তা ছাড়াই কাজ করতে পারে, এমনকি পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও।
চুল্লি পাত্রটির ওজন ৩৩৩ দশমিক ৬ টন এবং স্টিম জেনারেটরের ওজন ৩৪০ টন। পৃথকভাবে চুল্লিপাত্র ও স্টিম জেনারেটর বিশেষ স্বয়ংক্রিয় যানে করে ভোলগোদোনস্কে সিমলিয়ান্সক জলাধারের একটি জেটিতে করে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নভোরোসিয়েস্কে পৌঁছাবে, এরপর সেখান থেকে কৃষ্ণসাগর ও সুয়েজ ক্যানেল হয়ে বাংলাদেশে (রূপপুর) বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছাবে।
রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের জন্য জেএসসি অটোমেনারগোম্যাশ ১৪ ধরনের সরঞ্জাম প্রস্তুত করবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে – চুল্লিপাত্র, স্টিম জেনারেটরের যন্ত্রাংশ, প্রধান সঞ্চালন পাইপলাইন, প্রধান সঞ্চালন পাম্প, চাপ কমানো যন্ত্র, জরুরি শীতলকরণ ব্যবস্থা, নিস্ক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এছাড়াও টারবাইন হলের জন্য উচ্চচাপ তৈরির হিটার (হাই প্রেসার হিটার), ভ্যাকিউম, কনডেনসেট ও ফিড পাম্প ও টারবাইন ইউনিট পুনরায় গরম করার যস্ত্র প্রস্তুত করবে জেএসসি অটোমেনারগোম্যাশ। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার টনের ওপর বিভিন্ন অদ্বিতীয় যন্ত্রপাতি তৈরি ও সরবরাহ করবে জেএসসি অটোমেনারগোম্যাশ।
রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত, প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৩ এবং দ্বিতীয়টির ২০২৪ সালে।
জেএসসি অটোমেনারগোম্যাশ-এর মহাপরিচালক আন্দ্রেই নিকিপেলোভ বলেছেন, গুণগতমানের যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও সেগুলো সময়মতো সরবরাহ করাই আমাদের অগ্রাধিকার। করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম চুল্লির সরঞ্জাম পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। এসব জিনিস গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশ সময় লাগবে। এগুলো ১৪ হাজার কিলোমিটার সমুদ্রপথ অতিক্রম করে বাংলাদেশে পরমাণু কেন্দ্রে এ বছরের শেষের দিকে পৌঁছাবে।
-এটি