বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ১ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৬ রজব ১৪৪৭


বেফাকে সৃষ্ট পরিস্থিতি তদন্তে উচ্চতর কমিটি, পেছালো আমেলার বৈঠক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আব্দুল্লাহ আফফান ও ইশতিয়াত সিদ্দিকী।।

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড- বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের মধ্যে ঘটিত ফোনালাপ ফাঁস ও চলমান অস্থিরতা, অনিয়ম এবং সংকট উত্তরণের জন্য ছয় সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বেফাকের আমেলার জরুরি বৈঠক পেছানো হয়েছে।

আজ রোববার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় বেফাকের চেয়ারম্যান শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কার্যালয়ে খাস কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক খাস কমিটির সদস্য আওয়ার ইসলামকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ও সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফের মধ্যে ঘটিত ফোনালাপ ফাঁস ও চলমান অস্থিরতা, অনিয়ম এবং সংকট উত্তরণের জন্য ছয় সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মুফতি জসিম উদ্দিন। সদস্যরা হলেন- মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক বা মুফতি আব্দুল্লাহ, মুফতি মনসুরুল হক, মুফতি দেলওয়ার হোসাইন, মুফতি নোমান আহমদ বরুড়া। তদন্ত কমিটিকে সবরকমের সহযোগিতা করবেন বেফাকের সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের। কমিটি চলতি মাসের ২৭ তারিখ তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আবারও খাস কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে হাটহাজারী মাদরাসায়।

জানা যায়, আগামী ২৯ আগস্ট আল্লামা শাহ আহমদ শফীর উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা বেফাকের খাস কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিক হবে। বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নিরপেক্ষ এবং নির্মোহ চিন্তার আলোকে মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বৈঠক সূত্র আওয়ার ইসলামকে আরও জানিয়েছেন, ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বেফাকের মজলিসে আমেলার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকটি পিছিয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আমেলার বৈঠক চূড়ান্ত করা হয়েছে। আল্লামা আহমদ শফীর সম্মতিতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

আজ হাটহাজারী মাদরাসায় বেফাকের চেয়ারম্যান শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কার্যালয়ে খাস কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বেফাকের সহসভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা সফিউল্লাহ, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, বেফাক মহাসচিক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এবং মাওলানা নুরুল আমিন।

ফোনালাপ ফাঁস এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সম্প্রতি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবু ইউসুফসহ তিনজনকে স্থানীভাবে বহিষ্কার করে বেফাক। তবে ফোনালাপে জড়িত বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুসের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টির চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবশ্য গত ২৭ জুলাই বেফাক চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শফির একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে মাওলানা আব্দুল কুদ্দসকে নির্দোষ দাবি করা হয়েছে।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ